শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০২১ ০১:৩২

রোগী ভাগিয়ে আনলেই দিচ্ছে গরু

নাটের গুরু এরশাদ শিকদারের সহযোগী মামুন বিয়ে করেছেন ২৭টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনতে এবার দেওয়া হচ্ছে কোরবানির গরুর অফার। নিম্নমানের ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিকরা দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিচ্ছেন এমন প্রলোভন। অ্যাম্বুলেন্সচালক এবং হাসপাতালের দালালরা উন্নত চিকিৎসার নামে প্রলোভন দেখিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। শুধু তা-ই নয়, রোগী ভর্তির পরও রোগীদের কাছ থেকে অযথা বিভিন্ন টেস্ট ও পরীক্ষার কথা বলে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত বিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর শ্যামলীর ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতা এরশাদ শিকদারের সহযোগী সাহাদাত হোসেন মামুনসহ চারজনকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। মঙ্গলবার রাতে শ্যামলীর ওই হাসপাতাল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করেন র‌্যাব-২ এর সদস্যরা। গ্রেফতার অন্যরা হলেন মহিন উদ্দিন মামুন, রহমত উল্লাহ ও আকরাম হোসেন। মূল হোতা সাহাদাতের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার জাল টাকা ও ৫৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও জব্দ করা হয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম। তিনি বলেন, সম্প্রতি করোনা মহামারীর সুযোগে একশ্রেণির দালাল রাজধানীর কিছু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে মোটা অঙ্কের কমিশনের মাধ্যমে রোগীদের হেনস্তা করছে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট উচ্চ ভাড়ায় ঢাকার বাইরের রোগীদের নির্ধারিত হাসপাতালে ভর্তি করার মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কমিশন পাচ্ছে। র‌্যাব-২ এর ছায়া তদন্তে উঠে এসেছে দালাল চক্রের হোতা মামুনের নাম। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ও তদন্তে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার নাম করে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী নিয়ে আসে এবং রোগী নিয়ে এসে আইসিইউতে ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন চেকআপের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন গ্রেফতার ব্যক্তিরা। র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক সাইফুল বলেন, মামুন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রোগী ভাগিয়ে আনার জন্য কমিশন দিতেন দালাল ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের। সম্প্রতি কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে কোনো কোনো দালাল ও অ্যাম্বুলেন্সচালককে কোরবানির গরুও উপহার দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হয়। র‌্যাব কর্মকর্তা সাইফুল বলেন, মামুন প্রতারণার উদ্দেশ্যে এ পর্যন্ত ২৭টি বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর মূলত যৌতুক ও টাকা আদায় করে তাদের জিম্মি করা হতো। তাদের দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করানো হতো। তার প্রতারণার শিকার বিভিন্ন হাসপাতালের নার্সিং পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারী ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা সাধারণ রোগী বা রোগীর আত্মীয় রয়েছেন।

প্রতারক মামুন খুলনা অঞ্চলের বহুল আলোচিত ফাঁসি হওয়া এরশাদ সিকদারের সহযোগী। এরশাদ সিকদারের ফাঁসির পর তিনি পেশা বদলে ঢাকায় এসে হাসপাতাল চক্রের দালালি, মাদক ব্যবসা ও জাল টাকার ব্যবসা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর