মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

পদ্মার ভরসায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিল ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

প্রতি বছরই বাড়ছে গ্রাহক। ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল ওয়াসা। গ্রাহকদের সুপেয় পানি সরবরাহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে পানিতে আয়রনসহ কিছু ক্ষতিকর পদার্থ। একদিকে পানি বিশুদ্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না, অন্যদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর তলানিতে নামছে। এমন উভয় সংকট থেকে মুক্তি পেতে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনের পথে হাঁটছে ওয়াসা। সেই লক্ষ্যে পেয়েছে ৪ হাজার ১৫০ কোটি টাকার ‘রাজশাহী ওয়াসা ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার’ শীর্ষক প্রকল্প।

এ প্রকল্পের আওতায় পদ্মার পানি বিশুদ্ধ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে নগরী ছাড়াও জেলার গোদাগাড়ী, কাটাখালী এবং নওহাটা পৌরসভায়। ফলে আয়রন ও কেমিক্যালমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে ওয়াসার গ্রাহকরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকীর হোসেন জানান, ‘গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়। পরে একনেকেও প্রকল্পটি পাস হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজশাহীর পানির সমস্যা আর থাকবে না। পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে পানযোগ্য করে তোলার কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপরেও চাপ কমবে।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকার জন্য ২০১০ সালের ১ আগস্ট ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরের বছরের ১০ মার্চ থেকে রাজশাহী ওয়াসার কার্যক্রম চালু করে। তখন নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের ১০৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৫৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করেছিল ওয়াসা। বর্তমানে ওয়াসা জনসংখ্যা-ভিত্তিক পানির প্রাপ্যতা (কাভারেজ) ৫২ শতাংশ থেকে ৮৪ শতাংশে উন্নীত করেছে।

গত মার্চে রাজশাহী ওয়াসা চীনের হুনান কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে ‘রাজশাহী মহানগরীতে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ’ শীর্ষক ৪ বছর মেয়াদি একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী প্রকল্প বাবদ চীন সরকারের থেকে পাওয়া ঋণ রাজশাহী ওয়াসাকে পানি অভিকর বাবদ প্রাপ্ত আয় থেকেই পরিশোধ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১০০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে নগরবাসী ও পাশের পৌরসভাগুলোর জন্য আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজমুক্ত নিরাপদ ও সুপেয় পানির কাভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকীর হোসেন জানান, প্রকল্পের টাকা দিয়ে শোধনাগার স্থাপন ছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন পাইপলাইন বসানো হবে। পুরনো পাইপলাইনগুলোও নতুন করে স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় চার বছর। এরপর নগরীতে আর পানির কোনো সংকট থাকবে না বলে আশাবাদী তিনি।