মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

শাওমি ফরচুন 'গ্লোবাল ৫০০' কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম

অনলাইন ডেস্ক

শাওমি ফরচুন 'গ্লোবাল ৫০০' কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম

গ্লোবাল টেকনোলজি লিডার শাওমি তৃতীয় বছরের মতো ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ২০২১ সালের তালিকায় ২০২০ সালের চেয়ে ৮৪ ধাপ এগিয়ে শাওমির অবস্থান ৩৩৮তম; যা ২০২০ সালে ছিল ৪২২তম।

ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় ইন্টারনেট ও রিটেইল ক্যাটাগরিতে ২০২১ সালের দ্রুততম প্রবৃদ্ধির কোম্পানি হিসেবে এই অবস্থান দখল করেছে শাওমি। 

শাওমির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও সিইও লেই জুন বলেন, “আমাদের অতীতের অর্জনের থেকে  সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধিতেই আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ। শাওমি এখনও তরুণ কিন্তু উচ্চাভিলাষী একটি প্রতিষ্ঠান যা প্রেরণায় পরিপূর্ণ। আমি বিশ্বব্যাপী শাওমির ফ্যানদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই কেননা তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনই শাওমিকে করেছে প্রাণবন্ত ও উদ্যোমী।”

শাওমির আয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে শাওমি মোট আয় করেছে ২৪৫.৯ বিলিয়ন ইউয়ান, এটাই শাওমিকে ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় ৩৩৮তম স্থানে তুলে এনেছে। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে শাওমি আয় করেছে ৭৬.৯ বিলিয়ন ইউয়ান (চীনা মুদ্রা), যা বার্ষিক হিসেবে বেড়েছে ৫৪.৭ শতাংশ। 

এই সময়ে মুনাফা এসেছে ৬.১ বিলিয়ন ইউয়ান, মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬৩.৮ শতাংশ। ক্রমবর্ধমাণ এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে বাজারে হাই-এন্ড ক্যাটাগরির স্মার্টফোন, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং কোম্পানির নতুন রিটেইল ব্যবসার উন্নয়ন। 

শাওমির মূল লক্ষ হলো উদ্ভাবনী প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মাঝে ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের মূল ভূখণ্ডে ও বিশ্ববাজারে শাওমি ৪০ লাখের বেশি স্মার্টফোন সরবরাহ করেছে যার ডিভাইস প্রতি গড় মূল্য চীনে ৩০০০ ইউয়ান এবং বিশ্ব বাজারে ৩০০ ইউরোর চেয়ে বেশি। 

শাওমির স্মার্টফোন এখন বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১২টি বাজারে শাওমি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, আর বাজারে শেয়ারের দিক থেকে ইউরোপে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। আর সর্বশেষ ১৫ প্রান্তিকে ভারতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে শাওমি।  

নতুন রিটেইলের ক্ষেত্রে ২০২০ সাল থেকে শাওমির ফিজিক্যাল স্টোরগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চীনে মি হোম স্টোরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০০ এর বেশি, এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে ১ হাজারের বেশি শাওমি স্টোর রয়েছে।

এর পাশাপাশি সারা বিশ্বেই শাওমির ফিজিক্যাল রিটেইল নেটওয়ার্ক খুব দ্রুত গড়ে তোলা হচ্ছে। পরবর্তী দশকে শাওমি উৎপাদন শিল্পে নতুন চালিকাশক্তি হবে বলে শাওমির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানান সিইও লেই জুন।  

২০২১ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, সিইও লেই জুনের নেতৃত্বে শাওমি ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এজন্য এ খাতে আগামী ১০ বছরে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে শাওমি। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করবে ১০ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১.৫৫ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, শাওমি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে এবং ২০১৮ সালের ৯ জুলাই (১৮১০.এইচকে) হংকং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। শাওমি একটি ইন্টারনেট কোম্পানি যা আইওটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে স্মার্টফোন ও স্মার্ট হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত। শাওমি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ http://blog.mi.com/en/

 


বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর