Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৫

ভোলায় ১০ কোটি টাকার আমনের ক্ষতি

নিম্নচাপের প্রভাব

ভোলা প্রতিনিধি

ভোলায় ১০ কোটি টাকার আমনের ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় নাডার প্রভাবে ভোলায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৭ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মাঠের ফসল দমকা হাওয়া আর ভারি বর্ষণের কারণে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় পানিতে পচে যাচ্ছে ধানগাছ। কৃষকরা যেখানে বাম্পার ফলের আশা করেছিল সেখানে এখন খরচের টাকা উঠবে কিনা তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে। কৃষকরা জানান, কার্তিক মাস মানেই আমন ধানের ভরা মৌসুম। ভোলার মাঠে মাঠে বেড়ে উঠেছে স্থানীয় আর উচ্চফলনশীল জাতের অন্তত ৪০ রকম ধান। রাজাশাইল, কাজলশাইল, ব্রি ৬২, ৩২ আর বিনা ৭ সহ বেশ কয়েকটি জাতের ধান আর ১৫-২০ দিন পরই কাটার কথা। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ কেড়ে নিল বহু কৃষকের ভাগ্য। যে ধান মাত্র কয়দিন পরই গিয়ে উঠত কৃষকের গোলায় তা এখন মাঠেই পচে যাচ্ছে। সদর উপজেলার ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া, ইলিশা, কাচিয়া, ধনিয়া, আলীনগরসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ মাঠেই দেখা যায় ধানগাছ পানিতে শুয়ে পড়েছে। শুধু সদর উপজেলাই নয় পুরো জেলার ৭ উপজেলায় আমন হারিয়ে বহু কৃষক এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর ভোলা জেলায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এতে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৪০৮ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হওয়ার কথা কিন্তু নাডার প্রভাবে জেলায় ১৩ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমির ৪ হাজার মেট্রিকটন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত ১০ কোটি টাকার ধান কম উৎপাদন হবে। জেলার কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রণোদনার বীজ ও সার এখনো পায়নি। অথচ এরই মধ্যে আবার নাডার ধাক্কা খেল তারা। কৃষকদের এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য পরবর্তী রবি কিংবা বোরো মৌসুমের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা। তবে, শুধু পরামর্শ নয়, আর্থিক অনুদান কিংবা সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

নোয়াখালীতে দিশাহারা কৃষক : নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় নাডার প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে রোপা আমনের ৩১ ভাগ ফসল ও চাষকৃত শাক-সবজি ৩৬ ভাগ ক্ষতির মুখে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন দিশাহারা। সরকারিভাবে সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না অনেক প্রান্তিক কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, জেলায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়। এর মধ্যে বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে ৪৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমির ফসল। অন্যদিকে চাষকৃত আড়াই হাজার হেক্টর সবজি খেতের মধ্যে ৯০০ হেক্টর জমির সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দায়দেনা করে লাভের আশায় জমি আবাদ করে হঠাৎ ক্ষতির মুখে পড়ে এখন দিশাহারা কৃষকরা।


আপনার মন্তব্য