Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৪৫

‘মাতব্বরি বিক্রি’ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা

সংঘাতের আশঙ্কা টহল দিচ্ছে পুলিশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

‘মাতব্বরি বিক্রি’ নিয়ে

গ্রামে উত্তেজনা

ফরিদপুরের নগরকান্দার বেশিরভাগ গ্রামে এখনও চলছে ‘মাতব্বরি’ প্রথা। মাতব্বরি দলে ‘নতুন সদস্য’ নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরাজ করছে উত্তেজনা। কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে কয়েক গ্রামে চলছে মহড়া। হয়েছে পাল্টাপাল্টি সভাও। এলাকাজুড়ে ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় কয়েকটি গ্রামে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। নগরকান্দা থানার ওসি জানান, পুড়াপাড়া ইউনিয়নে মাতব্বরি নিয়ে উত্তেজনা চলায় পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ও মাতব্বররা জানান, নগরকান্দার পুড়াপাড়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাতব্বরি করে আসছে আটটি গ্রামের ৮১ জন। এ ৮১ জনকে নিয়ে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির নাম ‘ময়াল’। এই ৮১ জন পুরো ইউনিয়নে কোনো সমস্যা হলে তা দেখভাল করে থাকেন। এদের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য সবাই। সম্প্রতি কমিটির প্রভাবশালী একজনকে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে নতুন সদস্য হন মেহেরদিয়া গ্রামের আইয়ুব শেখ। এ নিয়ে ‘ময়াল’ কমিটির সভাপতি সোবহান মাস্টার ও পরিচালক মান্নান ফকিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এ দ্বন্দ্ব এখন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে। মাতব্বরদের একটি অংশ নতুন সদস্যকে মেনে না নিলে গ্রামজুড়ে শুরু হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। রয়েছে সংঘাতের আশঙ্কা। মাতব্বরদের অন্যতম নেতা আবদুস সোবহান, রশিদ ফকির, সিদ্দিক সরদার জানান, সব মাতব্বর এক না হলে নতুন সদস্য নেওয়া যাবে না। আর সদস্যকে হতে হবে নিরপেক্ষ, সর্বজন শ্রদ্বেয়। কিন্তু যাকে সদস্য হিসাবে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে তিনি গ্রামে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নন। এমন লোককে সদস্য করলে ‘মাতব্বরি’ বিতর্কের মুখে পড়বে। মাতব্বরের আরেক অংশের নেতা পৈলান খা, চুন্নু, মোশাররফ জানান, নতুন সদস্য নিয়ে কেউ বিরোধিতা করছে ঠিক কিন্তু তা অন্য কারণে। ‘ময়াল’ কমিটির পরিচালক সোবহান মাস্টার বলেন, ‘নতুন সদস্য নিতে হলে কমিটির সব সদস্যকে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাছাড়া ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে সদস্য নেওয়া হয়েছে, এটা কমিটি মেনে নেবে না।’ সভাপতি মান্নান ফকির বলেন, ‘নতুন সদস্য নেওয়া আগেও হয়েছে এখনও হচ্ছে। এটা কোনো অপরাধ নয়।’ টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন সদস্য হতে হলে গ্রামবাসীকে খাওয়াতে হয়। এজন্য কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে, এটাই নিয়ম।’

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর