শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:৫৪

বেড়ায় অবরুদ্ধ ৪০ পরিবার

‘চার যুগ ধরি বাড়ি করে আছি হামরা কোনটে যাইমো।’

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বেড়ায় অবরুদ্ধ ৪০ পরিবার

লালমনিরহাটে কাঁটাতারের বেড়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তিস্তা নদী ভাঙনের শিকার ৪০ ভূমিহীন পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে হাতীবান্ধা উপজেলার খোর্দ্দ বিছনদই গ্রামে।  সরেজমিন দেখা যায়, তিস্তায় বসতবাড়ি হারিয়ে পরিবারগুলো আশ্রয় নেয় জেলা পরিষদের পরিত্যক্ত সড়কে। তারা এখানে আছেন ৩-৪ যুগ ধরে। এদের কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। একটি মহল তাদের উচ্ছেদে মরিয়া হয়ে লেগেছে। তারা চলাচলের পুরাতন হ্যারিংবন্ড সড়কটির অর্ধেক দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। ভূমিহীন পরিবারগুলোর দাবি, তাদের শেষ সম্বল থেকে উচ্ছেদ করার জন্যই একের পর এক ষড়যন্ত্র চলছে। নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভূমিহীন অক্কাস আলী বলেন, ‘৪০ বছর ধরি সড়োকত বাড়ি করে আছি। এলা হামারগুলাক তুলবার চায়। হামরা কোনটে যাইমো।’ ভোটমারী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অভিযুক্ত গোলাম মর্তুজা হানিফ জানান, ওই জমি জেলা পরিষদের নয়। আমার জমিতে আমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছি। ডাউয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম সায়েদ জানান, ওই সড়কটি পাকাকরণে ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। ভূমিহীন পরিবারগুলো সরে গেলে কাজ শুরু হবে। তা-না হলে সরকারি অর্থ ফেরত যাবে। লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান জানান, জেলা পরিষদের পরিত্যক্ত সড়কে ভাঙনে অসহায় পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তারা ৪০-৫০ বছর ধরে বসবাস করছে।

এ অবস্থায় তাদের জেলা পরিষদ থেকে উচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না। কালীগঞ্জের ইউএনও রবিউল হাসান জানান, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখা উচিত হয়নি। ওই জায়গা পুনরায় মেপে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। তার আগে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর