শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪৬

মাঠে দুলছে ‘কালো সোনা’

কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর

মাঠে দুলছে ‘কালো সোনা’

মাঠজুড়ে শুধুই সাদা ফুলের সমারোহ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে মাঠের পর মাঠ সাদা চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। এই সাদা ফুলের কদমের মধ্যেই লুকিয়ে আছে লাখ টাকার ‘কালো সোনা’। এটি সাধারণ কোনো ফুল নয়। এই ফুলের কদমের মধ্যে জড়িয়ে আছে ফরিদপুরের কৃষকের স্বপ্ন। যা থেকে ফরিদপুরের কৃষকরা সারা দেশের পিঁয়াজচাষিদের স্বপ্ন দেখায়। বীজটি কালো এবং সোনার মতো দামি হওয়ায় সবাই ‘কালো সোনা’ হিসেবেই অভিহিত করে। সারা দেশের মধ্যে পিঁয়াজ বীজ উৎপাদনে শীর্ষে আছে ফরিদপুর। বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে পিঁয়াজ বীজের সাদা কদম। গত দুই বছর ধরে পিঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় ফরিদপুরের চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন অধিক হারে এ বীজ আবাদে। ফলে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। সরকারের সহযোগিতা পেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পিঁয়াজ বীজ বিদেশে রপ্তানি সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিঁয়াজ বীজ উৎপাদিত হয় ফরিদপুর জেলায়। বর্তমানে মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে পিঁয়াজের কদম। আর কয়েক দিন পরই কদম শুকিয়ে যাওয়ার পর তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বীজ প্রস্তুত করা হবে। গত বছর পিঁয়াজ বীজের দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা নতুন আগ্রহ নিয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে বীজের আবাদ করেছে। এ বছর ১ হাজার ৭১১ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ বীজ আবাদ করেছে চাষিরা। পিঁয়াজ বীজ আবাদে একদিকে যেমন ব্যয়বহুল তেমনি এ বীজ বিক্রি করে লাভও হয় প্রচুর। গত বছর প্রতি মণ পিঁয়াজ বীজ বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে। এ বছর সদর উপজেলা ছাড়াও ভাঙ্গা, নগরকান্দা তাহেরপুরী, সুখসাগর, নাসিক কিং, বারি-১, বারি-৪ জাতের পিঁয়াজের বীজ আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরও পিঁয়াজ বীজ আবাদে লাভবান হবেন বলে মনে করছেন চাষিরা। পিঁয়াজ বীজ আবাদে দেশসেরা কৃষানির পুরস্কার পাওয়া ফরিদপুরের অম্বিকাপুরের সাহিদা বেগম জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে পিঁয়াজ বীজের আবাদ করে আসছেন। সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে থাকেন তিনি। গত বছর তিনি প্রায় ৪ কোটি টাকার বীজ বিক্রি করেছেন বলে জানান। এ বছর অধিক জমিতে বীজের আবাদ করেছেন। এ বছর ৫ কোটি টাকার বীজ বিক্রির আশা করছেন এ নারী কৃষানি। তার দেখাদেখি অনেক নারীই এখন পিঁয়াজ বীজ আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন। কৃষানি সাহিদা বেগম, বক্তার খান, বারী চৌধুরী জানান, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিঁয়াজ বীজের আবাদ হয় ফরিদপুরে। বিভিন্ন সময় বীজ সংরক্ষণ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। এ অঞ্চলে পিঁয়াজ বীজের জন্য একটি সংরক্ষণাগার করা হলে চাষিরা উপকৃত হবেন। তাছাড়া পিঁয়াজ বীজ আবাদে আগ্রহীদের সরকারি সহায়তা দিলে এ অঞ্চলে অধিক হারে পিঁয়াজ বীজের আবাদ হবে। যাতে করে বিদেশ থেকে বীজ আমদানি করতে হবে না। পিঁয়াজ বীজের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পুনরায় অ্যাকশন প্লান্টের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পিঁয়াজ বীজ সংগ্রহ করবে। এমনটাই প্রত্যাশা চাষিদের। পিঁয়াজ বীজ আবাদে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানালেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মো. হযরত আলী। তিনি বলেন, পিঁয়াজ বীজ আবাদে সরকারের তরফ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফরিদপুর জেলায় এ বছর ১ হাজার ৭১১ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ বীজ আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে ১ হাজার ২৬ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মন্তব্য