রবিবার, ৮ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

রেললাইনে বসতঘর, লুট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

জমির বেগ, ফেনী

রেললাইনে বসতঘর, লুট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

রেললাইনের ওপর নির্মিত বসতঘর (বাঁয়ে), খুলে নিয়ে গেছে স্লিপার ও পাত -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে ফেনী-বিলোনিয়া রেল চলাচল। ফলে পরিত্যক্ত রেলপথের কোটি কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ লুট হচ্ছে। রেললাইন, কাঠের স্লিপার, পাত, পাথর, রেলস্টেশনের অবকাঠামোর দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। চলছে জবরদখল। রেললাইনের ওপর বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বসতঘর। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ লুটপাট হলেও যেন দেখার কেউ নেই। এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় থাকলে অচিরেই এ রেলপথের সব সম্পদ হয়ে যাবে লুট। সরকার সুদৃষ্টি দিলে সচল হতে পরে রেলপথটি। তখন সৃষ্টি হবে কর্মস্থান। ১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়ার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। ২৬.৭০ কিলোমিটার রেলপথে বন্ধুয়া দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবক্স মুন্সিরহাট, নতুন মুন্সিরহাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনিয়াসহ আটটি স্টেশন করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট রেলওয়ে কর্তৃৃপক্ষ লোকসানের অজুহাতে ফেনী-বিলোনিয়ার রেল চলাচল বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় মাহবুবুল হক সেলিম জানান, এক সময় ট্রেনই ছিল এখানকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ব্যবসায়ী সজিব জানান, কিছু অসাধু রেল কর্মকর্তার কারণে এই রুট লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ফলে রেল কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনিয়া রুট বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় শামীম জানান, অযত্ন-অবহেলায় সবগুলো স্টেশনের বেহাল দশা। স্টেশনগুলোর অবকাঠামো ধ্বংসের পথে। রেললাইনের পাশাপাশি পথের দুই পাশের গাছও কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। লাইনের ওপর অনেক স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে ঘর। ফেনী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আইনুল কবির শামীম বলেন, রেল রুট আবার চালু হলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিলোনিয়া স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পারাপারে যোগ হবে নতুন মাত্রা। একাধিকবার এ রুট চালুর উদ্যোগ নিয়েও অদৃশ্য কারণে স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। ফেনী রেলস্টেশন মাস্টার সফিকুর রহমান বলেন, রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লাইনটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, স্টেশন ঘরগুলো দখলমুক্ত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ খবর