শিরোনাম
শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

নাব্য হারিয়েছে কাপ্তাই হ্রদ

কমেছে বিদ্যুৎ ও মাছ উৎপাদন ॥ ব্যাহত নৌ চলাচল

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

নাব্য হারিয়েছে কাপ্তাই হ্রদ

নাব্য হারিয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। ভরাট হয়ে গেছে তলদেশ। ডুবোচরে আটকা পড়ছে নৌযান। কমেছে বিদ্যুৎ ও মাছ উৎপাদন। যে হ্রদ সৃষ্টি হয়েছিল রাঙামাটিবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনে তা এখন অস্তিত্ব সংকটে। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হ্রদ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও তা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। সিদ্ধান্তহীনতায় ঝুলে আছে ড্রেজিং কার্যক্রম। কাপ্তাই হ্রদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। এ ছাড়া আমার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। ওপর লেভেলে কাজ হচ্ছে।’ তিনি জানান, পাউবো জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় হ্রদ ড্রেজিং বিষয়ে গবেষণা করছে। সূত্র জানান, ১৯৬০ সালে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে খরস্রোতা কর্ণফুলীর ওপর বাঁধ দিয়ে সৃষ্টি করা হয় কাপ্তাই হ্রদ। এটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশি। বিদ্যুতের পাশাপাশি মাছ উৎপাদন, নৌ যোগাযোগ, ভাসমান চাষাবাদ, সেচের পানি সরবরাহ, পর্যটনসহ বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনা গড়ে ওঠে হ্রদ ঘিরে। গত ৬২ বছরে কাপ্তাই হ্রদের কোনো সংস্কার বা ড্রেজিং হয়নি। বছরের পর বছর পাহাড়ি ঢলে পলি ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাচ্ছে তলদেশ। আশপাশে গড়ে ওঠা স-মিল, মিলিং মিল, ফিলিং স্টেশন, জেটিঘাট, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, হোটেল, বাসাবাড়ি, রেস্তোরাঁসহ আবাসিক এলাকার বর্জ্য পড়ছে হ্রদে।  বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ও রাঙামাটি উন্নয়ন অধিদফতর বিএফডিসির ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিং না হওয়ায় তিনটি মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র রিংখিং, কাচালং ও বরকল চ্যানেল একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। ২০১৭ সালের পর এসব এলাকায় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন হয়নি। এতে কার্পজাতীয় মাছ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নাব্য কম থাকায় মাছ ডিম ছাড়তে পারে না।’ কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আবদুজ জাহেদ বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে পানিস্বল্পতার কারণে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’

সর্বশেষ খবর