তফের আলী। বয়স ১৩০। নওগাঁর মান্দা উপজেলার লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বয়সের ভারে নুব্জ তফের আলী কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। তার ৮ ছেলে ৩ মেয়ের সবাই বেঁচে আছেন। শতবর্ষী বাবার খোঁজখবর নেন না কেউই। কখনো অন্যের বাড়িতে কখনো দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়ান পেটের দায়ে। কেউ কিছু দিলে খান, না দিলে অনাহারে দিন কাটে তফেরের। থাকার ঘরটার অবস্থাও খারাপ। সেখানে নেই কোনো আলো বাতাস। বৃষ্টির সময় ঘরে ঢোকে পানি। কষ্টই এখন তার একমাত্র সঙ্গী।
সন্তানের কাছে ভরণপোষণ চাইলে গত ১৮ আগস্ট তাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও মারধর, এমনকি হত্যার চেষ্টা করা হয়। নির্যাতন সইতে না পেরে আদালতের দ্বারস্থ হন অসহায় বৃদ্ধ। আদালত তফের আলীর কষ্টের কথা শুনে ছেলে আইনালের বিরুদ্ধে গত ২০ আগস্ট মামলা নেয়। তফের আলী জানান, সন্তানরা তাকে দেখভাল করে না। নিজেরা ভালো বাড়িতে থাকে, তাকে রেখেছে জরাজীর্ণ ঘরে। খেতে দেয় না। ওষুধের জন্য অন্যের দ্বারস্থ হতে হয়। এসব সহ্য করতে না পেরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। ছেলে আয়নাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার যেটুকু সামর্থ্য রয়েছে চেষ্টা করি বাবাকে ভরণপোষণ দেওয়ার।
প্রতিবেশীরা জানান, তফের আলীর আট ছেলের মধ্যে সাতজন বাইরে থাকেন। একমাত্র আয়নাল বাড়িতে থাকলেও তিনি বাবার সঙ্গে আলাদা থাকেন। শুনেছি কখনো ছেলে বাবাকে খাবার দেয় কখনো দেয় না। মামলা হয়েছে কি না জানি না।
তাফের আলীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৮ আগস্ট তফের আলী সন্তানরা ভাত দেয় না, মারপিট করে এমন অভিযোগ করেন। ২০ আগস্ট আমলি আদালতে মামলা নেন। তফের আলী কষ্টের কথা শুনে ছেলের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। এত সন্তান থাকার পরও বৃদ্ধ বাবার কেউ ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন না, এটা অমানবিক। মামলাটি এখন পেন্ডিং রয়েছে।