কবে বাড়ি আসবে বাবা সেই অপেক্ষায় ছিল ছোট্ট সোহাগী। ২৫ দিন পর বাবা আসছে শুনে মায়ের কাছে আবদার করে মাংস রান্না করার। বাবা ফিরল ঠিকই, ততক্ষণে সোহাগী চলে গেল না ফেরার দেশে। দেখা হলো না বাবা-মেয়ের। মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায়। সোহাগী (১১) পৌরসভার মৌলভীপাড়ার আবদুল হামিদের মেয়ে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার কুকুরের তাড়া খেয়ে জ্ঞান হারায় সে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সোহাগীর এমন মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
বাবা আবদুল হামিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাড়ি এসে ছোট্ট মায়ের মরা মুখ দেখব স্বপ্নেও ভাবিনী। ছয় দিন আগে ফোনে কথা হয়েছিল। মেয়েটা জানতে চেয়েছিল কবে বাড়ি ফিরব। মেয়েটা আমার ফেরার অপেক্ষার ক্ষণ গণনা করছিল। বাড়ি ফিরে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিতে পারলাম না।
সোহাগীর ভাই ইমরান চৌধুরী বলেন- জমি নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে আদালতে মামলা চলছে। বাবা অসুস্থ থাকায় কয়েকবার হাজিরা দিতে পারেনি। এ জন্য পরোয়ানা জারি করেন আদালত। চলতি মাসের শুরুতে তাকে জেলহাজতে যেতে হয়। গত বুধবার বাবা জামিনে মুক্তি পান। এ খবর শুনে সোহাগী আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে। বুধবার ছিল তার ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা। দুপুর সাড়ে ১২টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৩০ মিনিট আগেই শেষ করে বাড়ি ফিরে সে। বাবা বাড়ি আসবে এ খুশিতে দুপুরের খাবার খেয়েই বাসা থেকে বের হয়। পাশের বাসার সহপাঠীকে বাবার খবর দিতে যাওয়ার সময় কুকুর তাকে তাড়া দেয়। ভয়ে সোহাগী দৌড় এসে বাসার সামনে পড়ে যায়। হামাগুড়ি দিয়ে বাসায় ঢুকেই জ্ঞান হারায়। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিক্ষক নিত্যানন্দ ভক্ত বলেন, সোহাগী ছিল শান্ত স্বভাবের। সে বুধবার সবার আগে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়। তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই।