স্বাধীনতার প্রায় ৪৭ বছর পার হলেও হয়নি একটি সেতু। আত্রাই নদীর উপর একটি সেতুর অপেক্ষায় রয়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার লক্ষাধিক মানুষ।
নির্বাচনের আগে এলাকার মানুষকে সেতু নির্মাণে জনপ্রতিনিধিরা আশার বাণী দিলেও ৪৭ বছরেও হয়নি সেতুটি। ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৪ জেলার কয়েক লক্ষ মানুষ।
এ সেতুর দাবিতে গড়ে উঠেছে ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন নামের সংগঠন। এরই মধ্যে তারা মানববন্ধনসহ স্থানীয় বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎও করেছেন। আশ্বাস দিলেও সেতু কবে হবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি কেউ।
খানসামার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের মোখফুর আলী আক্ষেপ করে বলেন, 'জীবনটায় শ্যাষ হয়া যায়ছে, পুল আর দেখির পানু না। ম্যালা মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী কয়া গ্যালো কামের কাম কিছুই হয়ছে না।'
মোখফুর আলীর মতো কষ্ট আর আক্ষেপের শেষ নেই দুইপারের কয়েক লক্ষ মানুষের। 'আত্রাই' নদীর ওপর সেতু না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে কোনো রকমে পার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আর কষ্ট যেন বিষিয়ে তোলে এখানকার মানুষের।
মরিয়ম বেগম নামে আরো একজন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখি আসুছু নদীটির ওপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো। এলাও ওরকমই আছে। বিয়ে হয়ে শ্বশুড়বাড়ি গেনু। এ্যালাও ব্রিজ হইল না।’
সরজমিনের গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও একটি বাশের সাকো দিয়ে নদী পার হতো সবাই। কিন্তু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এখন নৌকাই একমাত্র ভরসা এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীদের। হাট বাজারসহ জরুরি প্রয়োজনে নৌকা একমাত্র পারাপারে পথ। রিকশা-ভ্যান না চলায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়া গ্রাম এলাকায় গড়ে ওঠা খেয়াঘাট নামক ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট হয়ে নৌকা দিয়ে আত্রাই নদী পার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিশুসহ এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে আত্রাই নদী পার হয়ে পূর্ব দিকের নীলফামারী জেলার ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে খানসামা উপজেলা, আত্রাই নদীর পশ্চিমে ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে ঠাকুরগাঁও ২২ কিলোমিটার মধ্যে পড়ে ঝাড়বাড়ী হাট, বাহাদুর বাজার ও গড়েয়া হাট। এছাড়া ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা মধ্যে পড়ে দক্ষিণে ২০ কিলোমিটার পর বীরগঞ্জ উপজেলার সদরের অবস্থান রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া, শুখানপুকুরী, বালিয়া, আকচা,পঞ্চগড় জেলার চেংঠী হাজরাডাঙ্গা, সুন্দরদিঘি,৮ ডন্ডপাল ইউনিয়নের বাসিন্দারা আত্রাই নদী পাড়ি দিয়ে নীলফামারী সদর হয়ে বিভাগীয় শহর রংপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছে ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটি। কমিটি’র আহবায়ক শেখ মো. জাকির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ঠাকুরগাঁও থেকে নীলফামারী সংযোগ সড়কের জন্য ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেঁয়াঘাটে সেতু নির্মানের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা মনে করি এই সেতুটি নির্মিত হলে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ দিনাজপুর জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে, ব্যাপক ভৌত অবকাঠামোগত পরিবর্তন হবে, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটবে, উন্নত চিকিৎসা হাতের নাগালে আসবে, কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাতীয় অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখবে।
বিডি প্রতিদিন/৩০ মে ২০১৮/হিমেল