ভোলায় উৎপন্ন উন্নত জাতের মুগডাল এখন জাপানে রপ্তানী করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা স্থানীয় বাজার দরের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি মূল্যে ডাল বিক্রি করতে পেরে বেশ লাভবান হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, স্থানীয় একটি উন্নয়ন সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় তারা এবার মুগডালের বম্পার ফলন পেয়েছেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বীজসহ অন্যান্য সহায়তা পাওয়া চলতি মৌসুমে ভোলায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে মুগডাল আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ভোলা সদর উপজেলাসহ দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাসন ও মনপুরা উপজেলায় এবার ২৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে মুগডালের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত জাতের বাড়ি মুগ-৬ ছাড়াও স্থানীয় জাতের মুগডাল রয়েছে। কৃষকরা জানান একর প্রতি ফলন আসছে ১৪ থেকে ১৫ মন। প্রতিমণ ডাল বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ শত টাকা।
জানা যায়, আন্তর্জাাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) এর অর্থায়নে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের পেইজ প্রকল্পের আওতায় মুগডালের জাত উন্নয়ন ও বাজারজাত করণের উপর স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা জেলার ৫টি উপজেলায় ৮ হাজার কৃষকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এ ছাড়া তারা কৃষকদের মাঝে বাড়ি মুগ-৬ এর বীজ বিতরণ করেছে। ওই সংস্থার সহযোগিতায় জাপানের একটি আমদানী কারক প্রতিষ্ঠান কৃষকদের কাছ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে মুগডাল কিনে জাপানে নিচ্ছে। ফলে কৃষকরা উচ্চমুল্যে বিক্রি করতে পেরে মহা খুশি। ইতোমধ্যে ভোলা থেকে ৫০ মেট্রিক টন মুগডাল ক্রয় করেছে জাপানি সংস্থাটি।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, ভোলায় চলতি মৌসুমে লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে মুগডাল আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জাপানি একটি সংস্থা ওই ডাল কিনে নেয়ায় কৃষকরা আগামীতে আরও অধিক জমিতে মুগের আবাদ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন