একাধিক খুনের মামলার আসামি রূপগঞ্জের তোফায়েল আহমেদ আলমাস চেয়ারম্যানকে এখনো পুলিশ আটক করতে পারেনি। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার। রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ৫২টি পয়েন্টে ইয়াবা ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও উপজেলার অন্য অনেক এলাকায়ও মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আলমাস চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সূত্রগুলো জানিয়েছে গত কয়েক বছর গাড়ির সামনে চেয়ারম্যান লেখা স্টিকার লাগিয়ে কক্সবাজারে আনাগোনা ছিল তার। এদিকে ক্ষমতার উৎস নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ তার গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ঘেরাও করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তার পরেও রহস্যময় ক্ষমতার জোরে আলমাস চেয়ারম্যান এলাকার বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে আলমাস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার। কারণ এক সময়ের বিএনপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন আলমাস চেয়ারম্যান আলোচনায় আসেন শিল্পপতি রাসেল ভূইয়া হত্যাকাণ্ডের পর। ২০০০ সালে শিল্পপতি রাসেল ভূইয়াকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। কিন্তু সেই মামলায় ছাড়া পাওয়ার পর আলমাস রূপগঞ্জে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। এখন তার নির্দেশে একের পর এক ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে রূপগঞ্জে। খুন মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই যা হয় না। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় ও জমি দখল মুড়াপাড়া ইউনিয়নে স্বাভাবিক ঘটনা।
সূত্র মতে, ছাত্রলীগ নেতা রুবেল হত্যাকাণ্ডের পর আলমাস চেয়ারম্যান সাময়িক পালিয়ে থাকলেও আবার যে কোনো সময় হাজির হতে পারেন বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। কারণ তার এলাকায় মাদক ব্যবসা চাঁদাবাজিসহ সব অপরাধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। এদিকে নিহত রুবেলের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন আলমাসের লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নামে-বেনামে তাদের হুমকি দিচ্ছে।
বিডি-প্রতিদিন/৩১ মে, ২০১৮/মাহবুব