মাদকবিরোধী অব্যাহত সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার ও বন্ধুকযুদ্ধ এড়াতে নেত্রকোনার মাদকের চিহ্নিত গডফাদার, খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীরা এখন গা ঢাকা দিয়েছে।
গ্রেফতার ও ক্রসফায়ারের ভয়ে এদের অনেকে চিকিৎসার নামে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে, আবার অনেকেই পাঞ্জাবি ও টুপি পরে মুসল্লি সেজে তাবলিক জামাতের চিল্লায় চলে গেছে। অনেকে আবার আত্মগোপনে।
গত ১৫ দিন ধরে দেশব্যাপী পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত নেত্রকোনায় তিন জন নিহত হয়েছে। বিএনপির দাবি এদের মধ্যে নিহত আমজাদ হোসেন জেলা ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। পুলিশের দাবি, অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৮-৯ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। এসব অভিযান থেকে উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত তিন শতাধিকেরও বেশি মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আটক করা হয়।
জানা যায়, পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের মধ্যেও কিছু চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা কৌশল পাল্টে এখনও মাদক বেচাকেনা অব্যাহত রেখেছে। মাদক জোন হিসেবে পরিচিত বিশেষ করে নেত্রকোনা জেলা শহরের চকপাড়া, মইনপুর, রাজুর বাজার, নাগড়া, সাতপাইয়ের কেডিসি গো-ডাউনের পেছনে, কুরপাড়, উকিল পাড়া, মোক্তারপাড়া, কাটলী, মালনী, ইসলামপুর, টিক্কা পাড়া, মেথর পাড়া, খতিব নগুয়া, বলাই নগুয়া, বাসস্ট্যান্ড, শ্মশানঘাট এলাকাসহ পৌর এলাকার অনেক স্থানে মাদক বিক্রয় ও সেবনের জন্য পরিচিত। মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ৩ শতাধিকের উপর মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাদকের কোন গডফাদার বা মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দানকারীদেরকে গ্রেফতার না করায় এ অভিযানের সত্যিকারের সাফল্য অর্জিত হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জানা যায়, নেত্রকোনার চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী যিনি মাদক সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে একাধিকবার গ্রেফতার ও জেল খেটেছেন, পুলিশের সাবেক কনস্টেবলের স্ত্রী সেই আলোচিত ছায়ারানী এখনও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছেন।
সিবিপিবি’র সাবেক সম্পাদক, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আনিছুর রহমান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ। দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে পুলিশকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই সাথে রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে যারা মাদকের সত্যিকারের গডফাদার তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের যে সব লোক অতীতে মাদক ব্যাবসায়ীদের সহযোগীতা করেছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে। তাহলেই এ অভিযানের সাফল্য অর্জিত হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম জানান, মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। যেখানেই খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আলোচিত কাউন্সিলর আবুল কালাম খোকনকে ধরা হয়েছে। এছাড়াও বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় জেলায় মোট আটক হয়েছে ৫৫১ জন। তারমধ্যে নিয়মিত মাদকের মামলায় আটক করা হয়েছে ১৭৮ জনকে। এছাড়াও ৩৭৩ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট তামিল আছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ কেজি ৪৪.৬ গ্রাম ২০ পুরিয়া হেরোইন। ৪৪২৮ পিস ইয়াবা ও ১৯ কেজির উপরে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য।
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা