শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:০৯

শেরপুরে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

শেরপুর প্রতিনিধি :

শেরপুরে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগের নিষ্ক্রিয়তায় ভেঙে পড়েছে জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, শেরপুরে এখন অনুমোদনহীন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি। অনুমোদন না থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের নাকের ডগায় চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। অবৈধদের দাপটে বৈধ সেন্টার গুলো এখন অসহায়।

আর ওইসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন চিকিৎসার নামে দালাল দিয়ে রোগী ধরে এনে করছে রমরমা বাণিজ্য। প্রতারণা  ও হয়রানীতে  প্রতিদিন শিকার হচ্ছেন সাধারণরা। ফলে স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। জেলার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নানা অনিয়ম ও দালাল হঠাতে ইতিপূর্বে জেলার প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সমিতি নানা কর্মসূচি দিলেও কোন কাজে আসেনি। 

১১ নভেম্বর সোমবার জেলা প্রশাসকের কাযালয়ের আইন শৃংখলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের দৌরাত্বে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ঠ সকল পক্ষকে নিয়ে বিশেষ সভা ডাকতে বলেছেন। জেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রুমান বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন।                                 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ছোট্ট এ জেলায় ৪০টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ৫৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর ৮০ ভাগই জেলা সদরে অবস্থিত। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে ২১টিরই নেই কোন সরকারি অনুমোদন। অবশিষ্ট ১৯টির লাইসেন্স বা অনুমোদন থাকলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সেগুলোর কোন নবায়ন করা হয়নি। 

জানা গেছে,  ক্লিনিক ও বেশ কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার নবায়নের সব শর্তপূরণ করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিদর্শন করেনি বলে লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। অধিকাংশের নেই কোন সরকারি অনুমোদন। নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক, ৬ জন ডিপ্লোমা নার্স, জরুরি বিভাগ ও মানসম্পন্ন অপারেশন থিয়েটারের নিশ্চিত করার কথা থাকলেও অধিকাংশের নেই। 

এ ব্যাপারে নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ শেরপুরের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ যেভাবে চলছে, তাতে স্থানীয় প্রশাসনের এখন কঠোর নজরদারি দরকার।’

জেলা বিএমএ সভাপতি ও জেলা বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএ বারেক তোতা বলেছেন, ‘বর্তমানে অনলাইন আবেদন জমা দেওয়া কঠিন, তাই নতুন লাইসেন্স ও নবায়ন ঝুলে আছে।’ তিনি  হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনেন।

এ ব্যাপারে শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. একেএম মো. আনওয়ারুর রউফ বলেন, ‘সদ্য যোগদান করেছি। কিছু বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন না থাকাসহ, হাসপাতালের চোর-দালালের কথা শুনেছি। সবাইকে সাথে নিয়ে অতি দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে। কেন নতুন হাসপাতালটি উদ্বোধন হচ্ছে না তাও দেখা হবে।’

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য