শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ আগস্ট, ২০২০ ১৬:৫৬

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

কুড়িগ্রামে নদনদীর পানি দ্রুত কমে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। বানভাসীদের অধিকাংশই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছেন। কিন্তু ৩ দফা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় তাদের মারাত্মক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। 

ক্ষতি হয়েছে বাড়িঘর, ফসলী জমি ও পুকুরসহ জলাশয়ের চাষ করা মাছ। দীর্ঘ দেড়মাস যাবত উচু বাঁধ ও স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বানভাসীরা ঘরে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন অনেকে।অনেকের এখনও বাড়িঘরে কাঁদা ও দুর্গন্ধময় হওয়ায় বাড়িতে ফিরতে চাচ্ছেন না এ মুহূর্তে। সেক্ষেত্রে তাদের ফিরতে আরো দু'একদিন সময় লাগবে। পানিবন্দী জেলার ৯ উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৫শতাধিক গ্রামের সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘ এ বন্যার সাথে টানা দেড়মাস মোকাবেলা করে চলে আসছেন। 

বন্যার ক্ষতি তারা কিভাবে পুষিয়ে উঠবেন তা তারা জানেন না। সদর উপজেলার ধরলা বাঁধের পাড় এলাকার মিনু বেগম জানান, বন্যায় অনেক কষ্টে দেড় মাস পার করলাম। এখন পানি সরে গেছে বাড়িতে এসেছি। কিন্তু এখন ঘরবাড়ি কাদায় ভর্তি। এছাড়া আমার স্বামীর কোন কাজ ছিল না। হাতে টাকাও নেই কিভাবে চলব তা জানিনা।

স্থানীয় কৃষিবিভাগ এখন পর্যন্ত সর্বশেষ রোপা আমন বীজতলা, শাকসবজি, পটল ও ঢেড়শসহ অন্যান্য সবজির ক্ষতি নিরুপণ করতে না পারলেও ৩ দফা বন্যায় জেলার ৯ উপজেলায় ইতোমধ্যেই ২০হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরুপে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা যায়। অনেক আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন কৃষকরা চিন্তিত।

এছাড়াও জেলা মৎস বিভাগের কর্মকর্তা কালিপদ সরকার জানান,পরপর কয়েক দফা বন্যায় জেলার সব উপজেলার প্রায় তিন হাজারেরও বেশি পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। এসব মৎস চাষকেন্দ্রের ২ হাজার ৭ শত মৎস চাষী পোনা-রেণুপোনা ও মাছসহ পুকুরের অবকাঠামোগত প্রায় ৮ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ফলে মাছ সংশ্লিষ্ট খামারী ও মৎস চাষীদের অনেকেই রয়েছেন ক্ষতির মুখে।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর