শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৮:৪২

কুড়িগ্রামে নদ-নদীতে ভাঙনে দুর্ভোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামে নদ-নদীতে ভাঙনে দুর্ভোগ

কুড়িগ্রামে সবগুলো নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় নদ-নদীতে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে নদনদী অববাহিকার বন্যা ও ভাঙনকবলিত মানুষজনের দুর্ভোগ ক্রমেই বেড়েছে। চতুর্থ দফা বন্যায় গত এক সপ্তাহে জেলার প্রায় ৪হাজার ৬১৯ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। তম্মধ্যে বেশি নিমজ্জিত হয়েছে আমন ধান ১হাজার ৮৪০ হেক্টর।

এছাড়াও শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল প্রায় সাড়ে ৪শ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে।নদনদীর পানি কমায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ধরলা ও দুধকুমর নদীর ২০টি পয়েন্টে নদী ভাঙন চলছে বলে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়। ফলে এসব এলাকার মানুষজন ভাঙন আতংকে দিন পার করছেন। গত এক সপ্তাহে সদরের সারডোবে ও যাত্রাপুরে দুই শতাধিক বসতভিটা, আবাদী জমি ও দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে উলিপুর উপজেলার চর বজরা এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,একটি পাকা রাস্তা ও শতাধিক বাড়িঘর ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে চলে গেছে। সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় একশ মিটার অংশ বিলীন হওয়ার পথে। পূর্বে ৫০মিটার ভেঙে গিয়ে শতাধিক বাড়িঘর নদী গর্ভে চলে যায়। ফলে এখানকার নদী ভাঙন কবলিতরা অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়া ফুলবাড়ী উপজেলার চর মেকলিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অর্ধশত ঘরাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের্র নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে ধরলা ও সবগুলো নদীর পানি কমে এখন বিপদসীমার অনেক নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে চতুর্থ দফা বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে।

তিনি নদী ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, জেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদী ভাঙছে। ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। পানি শুকিয়ে গেলে সম্পূর্ণ কাজ করা সম্ভব হবে।

এ প্রসঙে জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতোমধ্যেই সদর, উলিপুর ও নাগেশ্বরী উপজেলায় ১২ মে.টন চাল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তহবিল থেকে ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাওয়া গেছে। এসব ত্রাণ নদী ভাঙন কবলিতদের মাঝে দেয়া হবে। 

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর