শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৩৬
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৪৬

কুড়িগ্রামে ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে পানিতে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে পানিতে

প্রবল বর্ষণ ও উজানের পানির ঢলে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বেড়ে পঞ্চম দফা বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে সব নদ-নদীর পানি কমলেও রবিবার সকাল থেকে আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে এ বছরের সর্বোচ্চ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত চলমান থাকবে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রবিবার বিকেল পর্যন্ত সব নদ-নদীর পানি বাড়লেও ধরলার পানি বেড়ে আবারও বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শামসুজ্জামান মিয়া জানান, পঞ্চম দফা বন্যায় নতুন করে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমির আমনসহ ১৮ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়াও  অন্যান্য ফসল মাসকালাই ৬৫৪ হেক্টর, শাকসবজি ৩৫০ হেক্টর এবং চিনা বাদাম ৮০ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত। 

বন্যার কারণে সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী, মোগলবাসা, হলোখানা, রাজারহাটের ছিনাই, মহিধর, মীরেরবাড়ি, দেবালয় এবং ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙা ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে শত শত হেক্টর জমির শীতকালীন আগাম ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। 

ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, আমার বাগানে চাষ করা ফসলের অনেক কিছুই এবারের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢেঁড়শ, ঝিঙে, লাউ, সীমসহ আরও অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, বন্যায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে যাওয়ায় পানি ক্ষেতে চলে আসছে। ফলে ফসলের ক্ষেত রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হবে।

এদিকে, বন্যার পানি খড়ের গাদায় উঠে খড় নষ্ট ও গোচারণভূমি ডুবে থাকায় গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া নদ-নদীর পানি কমা-বাড়ার ফলে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধ কুমার নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে জেলার ৬টি উপজেলার ৬৭টি পয়েন্টে। 

গত দুইদিনে বিভিন্ন এলাকায় আরও দেড় শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে বাঁধ ও রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি থাকায় মানুষজন ঘর থেকে বের হতে পারেননি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, ধরলাসহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানি আরো দু-একদিন বাড়বে। 

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর