শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:৪৮
প্রিন্ট করুন printer

অভাবের সংসার, কামারশালায় ছেলের সহযোগী মা!

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

অভাবের সংসার, কামারশালায় ছেলের সহযোগী মা!

বৃদ্ধ শানদাসী হাপর দিচ্ছেন আর ছেলে জয়দেব হাতুড়ি পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, কাচি, শাবল, কোদাল। বয়স ৭০ হলেও এখনো কোন ভাতা পায় না শানদাসী। ছেলের বউ মারা যাওয়ার পর থেকেই জয়দেবের কামারশালার সহযোগী হিসেবে আছেন তার মা। মা ও ছেলেকে নিয়ে জয়দেবের অভাব অনটনের সংসার। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়ান গ্রামে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির আঙিনায় জয়দেবের ছোট্ট কামারশালা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই জয়দেবের কামারশালায় স্বেচ্ছায় হাপর দেয় তার মা শানদাসী। লেখা পড়ার কারণে বাবার কামারশালায় খুব একটা সময় দিতে পারেনা ছেলে সুজিদ। কামারশালায় তৈরি জিনিসগুলো স্থানীয় বল্লা, গান্ধিনা, রতনগঞ্জ ও কালিয়ান গ্রামের সাপ্তাহিক হাটে নিয়ে বিক্রি করেন জয়দেব। এসব বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়েই চলে তিন সদস্যের একটি অস্বচ্ছল পরিবার। জয়দেবের স্ত্রী একাদশীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মা আর ছেলে ছাড়া কেউ নেই সংসারে। টাকার অভাবে কামারশালায় কোন শ্রমিক রাখতে পাচ্ছে না জয়দেব। এক মাস আগে জয়দেবের স্ত্রী একদশী মারা গেছে। অসুস্থ স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। যে কারণে অর্থনৈতিক ভাবে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছে জয়দেব। এখন ছেলের অবস্থা দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেনা বৃদ্ধ মা।

বৃদ্ধ শানদাসী বলেন, স্বামী মারা গেছে ১০/১৫ বছর আগে, এখনো বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা কোনটাই পাইনা। মেম্বারের কাছে বলছি কয়েকবার কিন্তু এখনো হয় নাই। অভাব অনটনের সংসার তাই ছেলের সাথে কামার ঘরে হাপর দেই।

জয়দেব বলেন, আগে স্ত্রী হাপর দিতো, সে মারা যাওয়ার পর এখন আমার মা হাপার দেন। এ ছাড়া অন্য কোন কাম কাজ করতে পারিনা বলে বাধ্য হয়েই লেগে আছি। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর