শিরোনাম
প্রকাশ : ২ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৫৩
প্রিন্ট করুন printer

নেচে-গেয়ে বাহা উৎসব পালন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

নেচে-গেয়ে বাহা উৎসব পালন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর
Google News

নেচে-গেয়ে বাহা উৎসব পালন করলো নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। বসন্ত ঋতু এলেই গাছে গাছে নতুন ফুলের সমারোহ তেমনি নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বসন্তকে বরণ করে নেয়, তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য দিয়ে। এসময় তরুণীরা নতুন ফুল তাদের খোঁপায় গেঁথে আনন্দে নাচে-গানে মেতে ওঠে। গ্রামে গ্রামে চলে আনন্দ উৎসব। বাড়ি বাড়ি তৈরি হয় হাঁড়িয়া। সবাই হাঁড়িয়া খেয়ে আনন্দে বিভোর হয়ে মাদলের তালে তালে গাইতে থাকে, নাচতে থাকে। আর সেই আনন্দ-উৎসবই ‘‘বাহা উৎসব’’।

নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীদের অন্যতম একটি প্রধান পার্বণ হচ্ছে ‘‘বাহা উৎসব’’ বা বাহা পরব। বাহা অর্থ ফুল। তাই বাংলায় বাহা পরবকে ‘‘ফুল উৎসব’’ বলা হয়। 

শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বারকোনা গ্রামে কলম সরেন-আলমা সরেন মাঠে এ বাহা উৎসবের উদ্বোধক ছিলেন ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনার সঞ্জিব কুমার ভাট্টি। 

এসময় ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনার সঞ্জিব কুমার ভাট্টি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত এর মধ্যে সব সময় সু সম্পর্ক বিদ্যমান। উদাহারণ স্বরুপ বলা যায়, কোন প্রকার সমস্যা ছাড়াই বাংলাদেশে-ভারত ছিটমহল সমস্যা সমাধান হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে দুই দেশের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে সুসম্পর্ক রয়েছে তার উদাহারন হচ্ছে ২০১৯ সালে ১৬ লাখ বাংলাদেশীকে ভিসা প্রদান করা হয়েছে। সকলকে প্রাণঘাতী করোনা থেকে সাবধান থাকতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক পরিধানের আহবান জানান ভাট্টি। বাংলাদেশ যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তার জন্য স্বাগত জানান তিনি। 

বাহা উৎসবের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভূমিকা জাতির কাছে অবশ্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর কেউ রাজাকারের খাতায় নাম নাই। বরং প্রত্যেকেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রণাঙ্গনের সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।

বাহা উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজনে ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে), এএলআরডি, কিপিং ফাউন্ডেশন, ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ৫ম বাহা উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বাহা উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন, দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. মাসুদুল হক, পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাহা উৎসবের আহবায়ক বাসন্তী মুর্মু।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মানিক সরেন।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর