শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল, ২০২১ ১১:২০
আপডেট : ১০ এপ্রিল, ২০২১ ১১:২৭
প্রিন্ট করুন printer

কক্সবাজারে প্রথম মালচিং পেপার ও মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারে প্রথম মালচিং পেপার  ও মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ
Google News

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে প্রথমবারের মতো ভিন্ন আকারে ও ভিন্ন পদ্ধতিতে তরমুজের চাষ করে  আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন এক যুবক। বারোমাসি সুইট বেবি জাতের তরমুজ এই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

মোবাইলের ইউটিউব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শখের বসে চাষ শুরু করেন মো. রুহুল কাদের রুবেল (৩৪)। তিনি কুতুবদিয়া বড়কূপ চাঁদমিয়াপাড়া এলাকার মো. নুরুজ্জামানের ছেলে। আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে একটি ফার্মেসিতে কাজের সুবাদে টেকনাফে চলে আসেন রুহুল কাদের।

কাজের ফাঁকে তিনি ইউটিউব থেকে সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহবোধ করেন। তিনি জানুয়ারি মাসে ১৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে মাঠে কাজ শুরু করেন। এপ্রিলের শেষের দিকে সুইট বেবি তরমুজ বেচার সম্ভাবনা খুব বেশি।

সরেজমিন ও অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফের মতো অধ্যুষিত এলাকায় রুহুল শখের বশে উপজেলায় প্রথম সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বি হয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। স্থানীয়দের এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতন হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

রুহুল বলেন, 'আধুনিক পদ্ধতির এই চাষে পরিশ্রম হলেও সুবিধা ও মুনাফা রয়েছে। বারোমাসে এ ফলগুলো বাজারে পাওয়া যায় বিধায় এর কদর খুব বেশি। অন্যান্য প্রজাতির তরমুজ গুলো মৌসুম ভিত্তিক হলেও সুইট বেবি ভিন্ন। ৩৬৫ দিনই এই তরমুজগুলো বাজারে পাওয়া যাবে। তবে অন্যান্য তরমুজের চেয়ে এর দাম বেশি।'

তিনি আরও বলেন, 'অন্যান্য তরমুজ মাটির সাথে লাগোয়া হলেও সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ ভিন্ন। এটি মাটিতে থেকে উপরে মাচার সাথে ঝুলে থাকে। এতে মালছিং পেপার ব্যবহার করতে হয়। মালছিং পেপারের কারণে প্রতিদিন পানি দেওয়া লাগেনা। পানি একদিন দেওয়া হলে মালছিং পেপার ধরে রেখে পরিমাণ মতো সরবরাহ করে থাকে।' 

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই আগামীতে আরও বিশালাকারের এই চাষ করার কথাও বলেন তিনি। এছাড়াও পর্যটন শহর কক্সবাজার জেলাতে এখন পর্যন্ত সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ কোথাও করা হয়নি বলেও জানা গেছে। 

এ ব্যাপারে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, 'এই চাষটি কক্সবাজার জেলার প্রথম চাষ। এই পর্যন্ত জেলার কোথাও করেছে বলে তার জানা নেই। এই চাষে নিয়মিত কারিগরি সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার আবাদি জমিতে এই চাষ বা ক্ষেত খামার করা হলে স্বাবলম্বী হওয়া যাবে। কৃষিকাজে সমস্যা হলে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ রয়েছে।'

 

বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর