শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০২১ ১৯:৫৫
প্রিন্ট করুন printer

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হত্যা : মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হত্যা : মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ
নিহত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন
Google News

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনের হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন পার হলেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলার বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৫ জুন দুপুরে মধুখালী বাজার থেকে ভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন। মাকরাইল গ্রামের উত্তর পাড়া পৌঁছামাত্রই রাস্তার ওপরে প্রকাশ্যে দিবালোকে মামুন ও তার লোকজন জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালিয়ে পৈচাশিকভাবে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে, মৃত ভেবে ফেলে যান।

পরে গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মধুখালী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (বশেমুমেক) ভর্তি করা হয়। রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা হিরু মিয়া বাদী হয়ে গত ৬ জুন ওয়ালিদ হাসান মামুনকে প্রধান আসামি করে এবং ১৬ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  

এদিকে মামলার আসামিদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার মাকড়াইল বাজারের চৌরাস্তায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন তারা। পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

নিহতের বাবা হিরু মিয়া বলেন, নৃশংসভাবে জাহাঙ্গীর হোসেনকে হত্যার পর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, মামলা তুলে নিতে আসামিরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

নিহতের মেয়ে স্কুলছাত্রী মাহমুদা জাহান জ্যোতি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিল, আমার বাবা সারাজীবন সততার সঙ্গে জীবন পরিচালিত করেছেন। তিনি কারও ওপর কোনো অন্যায় আচরণ করেছেন বলে শুনিনি। গ্রামে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার বলেন, মামুন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। মাদক ব্যবসা ও নারী পাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত। জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে হত্যার আগেও এলাকায় একাধিক অপকর্ম করেছেন মামুন। এলাকায় মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। মামুন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি সিআইডি দেখছে। আমাদের সহায়তা চাইলে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।

ফরিদপুরের সিআইডির পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান মিনা বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ


 

 

 

এই বিভাগের আরও খবর