Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:০০

জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে পটুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল, আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ লাখ মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে পটুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল, আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ লাখ মানুষ
প্রতীকী ছবি

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শক্তিশালী হয়ে প্রবল বেগে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার ৬৮৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্গম এলাকার জানমাল রক্ষায় মোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৭ জন মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। বুলবুল এর প্রভাবে জেলার কোথাও দমকা হাওয়া না বইলেও পটুয়াখালীর উপকূল জুড়ে থেমে থেমে হালকা-মাঝারি বৃষ্টিপাত চলছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে ২ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে চর ও নিম্নঞ্চল। 

বুলবুল’র যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১০টি কন্ট্রোল রুম ও সিভিল সার্জনের গঠিত ৭৪টি মেডিকেল টিমসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কাজ করে যাচ্ছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের সাথে কাজ করছে ৬ হাজার ৫২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস ৮৬ মিলি মিটার ও কলাপাড়া রাডার স্টেশন শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মোট ২৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পায়রা বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলায় বুলবুল মোকাবেলায় বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সতর্কাবস্থানে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে সকল ধরনের নৌ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পটুয়াখালীতে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৭ জন মানুষকে দুর্গম এলাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে কলাপাড়ায় ৯৫ হাজার ৭২৫ জন, বাউফলে ৯২ হাজার ২৫০ জন, সদর উপজেলায় ৮৫ হাজার ২৬২ জন, গলাচিপায় ৮৪ হাজার ৩২০ জন, দশমিনায় ২৫ হাজার ২৫০ জন, রাঙ্গাবালীতে ৩৪ হাজার ১৭০ জন, মির্জাগঞ্জে ২৬ হাজার ৭২৫ জন ও দুমকি উপজেলায় ১৬ হাজার ১৬৫ জন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়াও জেলায় মোট ৯০ হাজার ৩৯৫টি গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় যৌথভাবে কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, নৌ ও সেনাবাহিনী। জেলায় পূর্বে ৪০৩টি সাইক্লোন শেল্টার খুলে দেয়া হলেও শনিবার মোট ৬৮৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের সাথে কাজ করছে ৬ হাজার ৫২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক। সার্বিক বিষয় মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটিসহ ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্যোগে মোকাবেলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩শ' মেট্রিকটন চাল, ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, ১৬৬ বান্ডিল টিন এবং ৪০০০টি কম্বল মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।  

বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব

 


আপনার মন্তব্য