শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৪

রসুল (সা.) ছিলেন পরশপাথর

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

রসুল (সা.) ছিলেন পরশপাথর

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিল মহৎ চরিত্রের অধিকারী। বিনয়ী হিসেবে তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। বলা হয় তিনি ছিলেন পরশপাথর। যাঁর স্পর্শে মানুষ খাঁটি সোনায় পরিণত হতো। আয়েশা (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুমধুর ভাষার অধিকারী ছিলেন। কোনো সময় রূঢ় ভাষায় কথা বলতেন না। এক ইহুদির কূপ থেকে পানি তুলতে গিয়ে রশি ছিঁড়ে বালতি পড়ে যাওয়ায় থাপ্পড় খেয়েছেন। তবু কোনো প্রতিবাদ করেননি। তিনি ছিলেন বিনয়ের প্রতীক। তিনি নিজের ঘোর শত্রুর সঙ্গেও ভালো ব্যবহার করতেন।

তায়েফ গোত্রের যুবকদের নৃশংস নির্যাতনের পরও রস–ল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ওপর কোনো ধরনের বদ দোয়া করেননি। যদিও একজন ফেরেশতা বলেছেন, ‘হে আল্লাহর রসুল! আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি তায়েফবাসীদের আমার পাখার দ্বারা ধ্বংস করে দেব।’ কিন্তু দয়ার নবী বললেন, ‘আমি তো দুনিয়াবাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। তারা তো বোঝে না। বরং তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে হেদায়েতের দোয়া কর।’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা উদার ও বিনয়ী ছিলেন এটি তারই প্রমাণ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মাঝে কোনো পার্থক্য করতেন না। দাস-দাসীর সঙ্গেও ভালো ব্যবহার করতেন। একবার তার এক খ্রিস্টান গোলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বার বার দেখতে যান এবং মাথার কাছে বসে থাকতেন। ওই গোলামটি খ্রিস্টান বলে তাকে দূরে ঠেলে দেননি। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রের বিনয় ও নম্রতা দেখে সে মুসলমান হয়ে যায়। এমনকি জায়েদ বিন হারেসা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র, বিনয় ও নম্রতার কারণেই নিজের পিতা-মাতাকে ছেড়ে তার সান্নিধ্যে থাকেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রসুলের চরিত্রের বিনয় ও নম্রতার সাক্ষী হলো স্বয়ং কোরআন’। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ অত্যন্ত প্রশান্ত মনের অধিকারী ছিলেন। তাঁর কাছে কেউ এলে তিনি তাকে সমাদর করতেন। এমনকি নিজের ব্যবহƒত চাদর বিছিয়ে বসতে দিতেন।’ মানুষের চরিত্রের মাধ্যমেই ঘোষিত হয় জীবনের গৌরব। যার পরশে জীবন ঐশ্বর্য্যম-িত হয় এবং যার বদৌলতে মানুষ জনসমাজে শ্রদ্ধা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র ও বিনয়ের কারণে অসংখ্য ভিন্নধর্মাবলম্বী মুসলিম হয়েছে। তাঁর বিনয় ও নম্রতার কারণে চোর চুরি করা ছেড়ে দিয়েছে। ডাকাত মানুষের সম্পদের পাহারাদার হয়েছে। একমাত্র রসুলের উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন আরবের যুবসমাজের মধ্যে একতা এসেছে এবং তারা চরিত্রবান হয়ে আদর্শ জীবন গড়েছে।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

 


আপনার মন্তব্য