শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুন, ২০১৯ ২৩:২৫

ইমান ভালো ও মন্দ উপলব্ধির শক্তি জোগায়

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

ইমান ভালো ও মন্দ উপলব্ধির শক্তি জোগায়

আল্লাহ ও তার প্রিয় হাবিব রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সত্য ও সুন্দরের উৎস। কল্যাণের পথের যাত্রী হতে হলে আমাদের ঐশী গ্রন্থ কোরআন এবং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে চলতে হবে। কোনটি সঠিক কোনটি কল্যাণকর তা জানতে কোরআন ও হাদিসের মুখাপেক্ষী হতে হবে। ভালো ও মন্দের পার্থক্য নির্ণয় যিনি করতে পারেন তাকেই আমরা একজন সঠিক মানুষ হিসেবে অভিহিত করতে পারি। প্রতিটি মুমিনের মধ্যে এ গুণটি থাকা দরকার। তবে মুমিনকে শুধু পার্থক্য নির্ণয় করেই ক্ষান্ত থাকলে চলবে না, তাকে অবশ্যই ভালো পথে চলতে হবে, ভালো কাজটি করতে হবে। মন্দ পথ থেকে দূরে থাকতে হবে, যা কিছু মন্দ তার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। হাদিসেও এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণিত। এক ব্যক্তি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ইমানের নিদর্শন কী? তিনি উত্তর দিলেন তোমার সওয়াবের কাজ যখন তোমাকে আনন্দ দেয় আর গুনাহের কাজ যখন তোমাকে দুঃখ দেয় তখন মনে করবে যে তুমি মুমিন। (মুসনাদে আহমদ)।

ইমান একটি জাগ্রত সত্তা। মানুষের মধ্যে যখন ইমান জাগ্রত থাকে তখন সে কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ তা উপলব্ধি করতে পারে। কিন্তু সেই সত্তা যখন স্তিমিত হয়ে পড়ে তখন সে মন্দের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

মুমিনদের মধ্যে ইমানের সত্তা যাতে জাগ্রত থাকে তা নিশ্চিত করতে আল্লাহ ও রসুলের প্রতি আত্মসমর্পিত হতে হবে। নিজেকে সব ক্ষেত্রে আল্লাহ ও রসুলমুখী হতে হবে। হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমানের স্বাদ সে ব্যক্তিই পাবে, যার মধ্যে তিনটি বিষয় পাওয়া যাবে। প্রথমত, সব কিছুর চেয়ে আল্লাহ ও রসুলের প্রতি বেশি ভালোবাসা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, কারোর সঙ্গে তার ভালোবাসা হলে তা হতে হবে আল্লাহর জন্য। তৃতীয়ত, তার কাছে ইমানের পর কুফরিতে ফিরে যাওয়া আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অপছন্দনীয় হতে হবে। (বুখারি ও মুসলিম)।

ইমানদার হতে হলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাতলে দেওয়া পথে চলতে হবে। নিজের প্রবৃত্তিকে বশে এনে কোরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত জীবন বিধানে একাত্ম হতে হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিই মুমিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত তার প্রবৃত্তি আমার আনীত হেদায়েতের বশীভূত না হয়ে যায়। (শরহুম সুন্নাত)। আল্লাহ বামাদের সবাইকে ইমানের সঙ্গে থাকার তৌফিক দান করুন।

                লেখক : ইসলামী গবেষক।

 


আপনার মন্তব্য