Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৬

তওবাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

তওবাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন

নিজের অপরাধসমূহকে স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া ও ভবিষ্যতে ওই গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করাকে তওবা বলে। যার ভিতর অপরাধবোধ নেই সে প্রকৃত মুমিন নয়। যখনই কোনো অপরাধী স্বীয় অপরাধবোধকে জাগ্রত করে মহান রবের কাছে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে তখন সে আল্লাহর বন্ধুতে পরিণত হয়। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও দৈনিক ১০০ বার তওবা করতেন। আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন, তওবা করা মাত্রই তার সব গুনাহ মাফ করেন এবং তওবাকারীর গুনাহসমূহকে নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। আল্লাহতায়ালা এ সম্পর্কে আল কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে ঝরনাসমূহ প্রবাহিত। আল্লাহ সেদিন নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদের অপদস্থ করবেন না।’ সূরা তাহরিম, আয়াত ৮।

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, ‘অনন্তর যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, আপনার পালনকর্তা এসবের পরে তাদের জন্য অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ সূরা নাহল, আয়াত ১১৯।

দয়াময় রব্বুল আলামিন সূরা ফুরকানের ৭০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘কিন্তু যারা তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহসমূহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহতায়ালা নিজ বান্দার তওবার কারণে তোমাদের ওই ব্যক্তি থেকেও অধিক আনন্দিত হন, যে জাগ্রত হওয়া মাত্রই ওই উটটি পেয়ে যায়, যা সে মরুভূমিতে হারিয়ে ফেলেছিল।’ মুসলিম। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক আদমসন্তান অপরাধী, আর অপরাধীদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তওবা করে।’ তিরমিজি।

প্রিয় পাঠক! তওবা গুনাহ মাফের প্রধান হাতিয়ার। যদি কোনো বান্দা নফস বা শয়তানের ধোঁকায় গুনাহ-পাপাচারে জড়িয়ে পড়ে, এমনকি গুনাহ করতে করতে নিজের জন্য জাহান্নামের আজাবকে অবধারিত করে নেয়; অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে দয়াময় আল্লাহর কাছে তওবা ও ইসতিগফার করে; মহান আল্লাহ ওই বান্দাকে ক্ষমার চাদরে আবৃত করে নৈকট্যশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। অতএব কৃত-অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে মহান রবের দরবারে তওবা-ইসতিগফার করা এবং দয়াময় মালিকের অনুগ্রহ সান্নিধ্য ও দিদারলাভে প্রয়াসী হওয়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য বাঞ্ছনীয়।

লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

Email : [email protected]

 


আপনার মন্তব্য