শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:২৪

মৃত ব্যক্তির প্রতি সমাজের দায়িত্ব

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

মৃত ব্যক্তির প্রতি সমাজের দায়িত্ব

মানুষ মাত্রই মরণশীল, কেউ চিরকাল বেঁচে থাকে না এবং মৃত্যু নির্ধারিত। কে কোথায় মারা যাবে আগেভাগে জানার সুযোগ নেই। যিনি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যাচ্ছেন তার প্রতি সমাজের সদস্যদের দায়িত্ব ও করণীয় রয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য বা অবহেলা প্রদর্শন করা পাপ ও অপরাধ। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে চোখ বন্ধ করে দেওয়া এবং চাদর দিয়ে পুরো দেহ ঢেকে দেওয়া ইসলামের বিধান। আপনজনের বিচ্ছেদে ব্যথাতুর হওয়া এবং কান্না করার অনুমতি আছে। তবে চিৎকার, গড়াগড়ি ও পোশাক-পরিচ্ছদ ছিঁড়ে ফেলা অনুমোদিত নয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তদীয় শিশুপুত্র ইবরাহিমের মৃত্যুতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘হে ইবরাহিম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা শোকাতুর।’ বুখারি। মৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব গোসল, কাফন পরানো, কবর খনন ও দাফনের ব্যবস্থা করা সওয়াবের কাজ। এটা ব্যষ্টিক ও সমষ্টিক দায়িত্ব। শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে গোসল করালে গোসল প্রদানকারীদের জীবনের সব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। গোসল করানোর সময় শারীরিক কোনো ত্রুটি দেখা গেলে গোসল প্রদানকারীরা যদি তা গোপন করে রাখেন, আল্লাহ তাদের জীবনের পাপ ৪০ বার মাফ করে দেবেন। কাফনের কাপড় কেউ সরবরাহ করলে বিনিময়ে তাকে জান্নাতে সবুজ বর্ণের রেশমি কাপড় প্রদান করা হবে। যারা কবর খনন করে দেন, তাদের জন্য জান্নাতে প্রাসাদ তৈরি করে দেওয়া হবে। মৃত ব্যক্তিকে গালি দেওয়া ও তার দোষচর্চা ও সমালোচনা করা নিষেধ। তার সদ্গুণাবলি স্মরণ করার নির্দেশনা রয়েছে। রিয়াদুস সালেহীন। মৃত ব্যক্তির জানাজার মিছিলে যুক্ত হওয়া, জানাজার নামাজ আদায় করা ও দাফনে শরিক হওয়া বিরাট পুণ্যের কাজ। জানাজা নামাজে অধিক মানুষের উপস্থিতি শুভলক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে এমন ৪০ ব্যক্তি যদি থাকেন যারা শিরক করেননি, তারা যদি মাগফিরাতের দোয়া করেন, আল্লাহ মৃত ব্যক্তির পাপসমূহ  ক্ষমা করে দেবেন। মুসলিম। সওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে কোনো ব্যক্তি যদি জানাজার শোভাযাত্রায় শরিক হয়, জানাজার নামাজ আদায় করে, দাফন শেষ হওয়া অবধি কবরস্থানে অবস্থান করে তাহলে দুই ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব প্রদান করা হয়। আর যদি দাফনের আগে কেবল জানাজার নামাজ আদায় করে ফিরে আসে, এক ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব মিলবে। ওহুদ পর্বতমালার সমান পরিমাপকে ‘কিরাত’ বলা হয়। রিয়াদুস সালেহীন।

যে ব্যক্তি মারা গেল তার যদি কোনো ঋণ থাকে তা আদায়ের ব্যবস্থা করা ওয়ারিশদের জন্য জরুরি। ঋণ পরের হক। আল্লাহ পরের হক মাফ করেন না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় ঋণগ্রস্ত এক ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। হজরত আলী (রা.) নিজের তহবিল থেকে আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে ইমামতি করেন। কর্জ আদায় না হওয়া পর্যন্ত জান্নাত বা জাহান্নামে যাওয়ার ফয়সালা স্থগিত রাখা হয়। তিরমিজি। দাফন করার পর তাড়াহুড়া করে ঘরে ফিরে না এসে কবরস্থানে অবস্থান করে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া-দরুদ ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকা এবং মাগফিরাত কামনা করা শরিয়তের হুকুম। হজরত আমর ইবন আস (রা.) বলেন, ‘আমাকে দাফন করার পর তোমরা কবরের পাশে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে মাগফিরাত কামনা করবে যতক্ষণ একটি উট জবাই করে বণ্টন করতে সময় লাগে।’ মুসলিম।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।


আপনার মন্তব্য