শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩০

লোক দেখানো আমল কবুল হবে না

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

লোক দেখানো আমল কবুল হবে না

আমরা যেসব ভালো কাজ করি তা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করি। আল্লাহর রাজি-খুশির জন্য যদি নেক আমল করা হয় তা কবুল হবে। নতুবা অনেক ভালো কাজ করেও সওয়াব পাওয়া যাবে না। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সব কাজকর্মের প্রতিদান নিয়ত অনুযায়ী দেওয়া হয়।’ বুখারি, মুসলিম। লোক দেখানোর আমলকে নবী (সা.) শিরক বলেছেন। হজরত শাদ্দাদ বিন আউস (রা.) বলেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ল সে শিরক করল। যে ব্যক্তি দেখানোর জন্য রোজা রাখল সে শিরক করল। যে ব্যক্তি দেখানোর জন্য দান-খয়রাত করল সে শিরক করল।’ মুসনাদে আহমদ। নবী করিম (সা.) আরও ইরশাদ করছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যকে শোনানোর জন্য কিছু করে আল্লাহ তা অন্যকে শোনাবেন এবং যে ব্যক্তি অন্যকে দেখানোর জন্য কিছু করে আল্লাহ তা অন্যকে দেখাবেন।’ বুখারি, মুসলিম। লোক দেখানোর জন্য হলে বড় বড় আমলও বিফলে যাবে। এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ একটি লম্বা হাদিস বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তিকে বিচারের জন্য পেশ করা হবে সে হবে একজন শহীদ। তাকে আল্লাহর এজলাসে উপস্থিত করা হবে। তারপর আল্লাহ তাকে (দুনিয়ার প্রদত্ত) নিয়ামতসমূহের কথা প্রথমে স্মরণ করিয়ে দেবেন। আর সেও তা স্মরণ করবে। এরপর আলাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, আচ্ছা বল তো শুনি! এতসব নিয়ামতের কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে দুনিয়ায় তুমি কী আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য (কাফিরের সঙ্গে) লড়াই করেছি। এমনকি শেষ পর্যন্ত আমি শহীদ হয়ে গিয়েছি। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; বরং তুমি এ উদ্দেশ্যে লড়াই করেছ যেন তোমাকে বীর বাহাদুর বলা হয়। (আর তোমার অভিপ্রায় অনুসারে) তোমাকে দুনিয়ায় তাও বলা হয়েছে। তারপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে, তখন তাকে উপুড় করে টানাহেঁচড়া করতে করতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর সেই ব্যক্তিকে বিচারের জন্য উপস্থিত করা হবে যে নিজে দীনি ইলম শিক্ষা করেছে এবং অন্যকেও শিক্ষা দিয়েছে। আর কোরআন অধ্যয়ন করেছে (এবং অন্যকেও শিক্ষা দিয়েছে)। তাকে আল্লাহর দরবারে হাজির করা হবে। তাকে প্রথমে তার নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সেও তা স্মরণ করবে। তারপর আল্লাহতায়ালা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, এসব নিয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপনার্থে তুমি কী আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি নিজে স্বয়ং ইলম শিক্ষা করেছি এবং অন্যকেও শিক্ষা দান করেছি এবং তোমার সন্তুষ্টির জন্য কোরআন অধ্যয়ন করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সন্তুষ্টির জন্য নয় বরং তুমি এ জন্য বিদ্যা শিক্ষা করেছ  যেন তোমাকে বিদ্বান বলা হয়। তারপর (এবং এ তোমার অভিপ্রায় অনুসারে) তোমাকে বিদ্বান ও কারিও বলা হয়েছে। তারপর (ফেরেশতাদের) তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে সুতরাং তাকে উপুড় করে টানতে টানতে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে।

তারপর এমন এক ব্যক্তিকে বিচারের জন্য আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে যাকে আলাহ বিপুল ধনসম্পদ দান করে বিত্তবান বানিয়েছেন। তাকে আল্লাহ প্রথমে প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। আর সে তখন সব নিয়ামতের কথা অকপটে স্বীকার করবে। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এ নিয়ামতের শুকরিয়ায় তুমি কী আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, যেসব ধনসম্পদ ব্যয় করলে তুমি সন্তুষ্ট হবে এমন একটি পথও আমি হাতছাড়া করিনি। সুতরাং তোমার সন্তুষ্টির জন্য তা ব্যয় করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। দানবীর সাজার জন্য তুমি তা করেছ। সুতরাং তাকে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।