শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩১

বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার

ঠেকাতে হবে দুর্বৃত্তায়ন

দেশে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানির পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারও বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও আধিপত্য বিস্তারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বৈধ অস্ত্র। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ছিল অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এ-দেশীয় দালালরা পালিয়ে যাওয়ার সময় যেখানে সেখানে ফেলে যায় অস্ত্র। তাদের তল্পিবাহকদের কাছেও অস্ত্র সরবরাহ করে। গত ৫০ বছরে একের পর এক অভিযানে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার কিছুটা হ্রাস পেলেও বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থের জন্য বিড়ম্বনা ডেকে আনছে। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের থাবা বিস্তৃত হওয়ায় রাজনৈতিক দলে পেশাদার অপরাধীরাও ঠাঁই পাচ্ছে। ঠিকাদারি ব্যবসার অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্ত্রবাজরা। অবৈধভাবে বৈধ অস্ত্র ব্যবহারই শুধু নয়, অপরাধীদের কাছে অনেক সময় ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে একদিকে যেমন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে তেমনি ব্যবহার হচ্ছে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, এমনকি সরকারি উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতেও। বৈধ অস্ত্র দিয়ে ঘটছে খুনও। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ মহড়া দেখা গেছে ব্যাপকভাবে। রাজনৈতিক দলের পদপদবি ব্যবহার করে ঠিকাদারের অনেকেই জেলা-উপজেলা শহরের সরকারি অফিসে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ায় এমন অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। দেশের সীমান্ত হয়ে অত্যাধুনিক সব অবৈধ অস্ত্র দেশে ঢোকায় জননিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। সম্প্রতি নোয়াখালীতে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক অভিযোগ করেছেন, সারা দেশে বিপুল অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও কমছে না অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থেই সব ধরনের অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ হওয়া দরকার। এ জন্য শুধু অভিযান নয়, দুর্বৃত্তদের বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ হওয়া জরুরি। রাজনীতিতে যাতে দুর্বৃত্তরা ঠাঁই না পায় সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।