শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

সড়কে যানজট

স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে

নানামুখী সমস্যায় ঢাকা মহানগরীর জীবনযাত্রা ক্রমেই আরও বেশি মাত্রায় দুর্ভোগময় হয়ে উঠছে। সবচেয়ে প্রকট ও জটিল সমস্যা হলো যানজট। কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যমের খবর, ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সম্প্রতি ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-দক্ষিণবঙ্গ যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোয় যানজটের খবর আসছে গণমাধ্যমে। রাস্তার স্বল্পতা, সমন্বয়হীন রুট পারমিট প্রদান, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চলাচল, মাত্রাতিরিক্ত রিকশা, সড়কের অপ্রশস্ততা, বেপরোয়া বাস-মিনিবাস, যত্রতত্র ট্রাকস্ট্যান্ড, রেলগেট, মিনিবাস, হিউম্যান হলারের মাত্রাধিক্য যানজটকে রীতিমতো স্থায়ী রূপ দিয়েছে। রাজধানীতে বছরজুড়ে বিভিন্ন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, জলাবদ্ধতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অপরিকল্পিত পার্কিং, ফুট ওভারব্রিজের অভাবে যানজট বাড়ছে। অন্যদিকে হাইওয়েতে চাঁদাবাজি, ব্যারিয়ারবিহীন ভিআইপি রোড, অটো সিগন্যালের অভাবে যানজট হচ্ছে। করোনা মহামারীতে লকডাউনের জন্য যানজট ছিলই না। কিন্তু লকডাউন শিথিল হওয়ার পর রাজধানীসহ, ঢাকা-সিলেট সড়ক, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ সড়ক, ঢাকা-দক্ষিণবঙ্গগামী সড়ক পুরনো চিত্রে ফিরে গেছে। বুধবার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদ ঘনিয়ে আসায় শিমুলিয়া, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটেও যানজট। বৃহস্পতিবার পার্কিং ইয়ার্ডে ২ শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে চেকপোস্ট থাকার পরও কোনোভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না জনস্রোত। ঢাকার যানজট শুধু সড়কগুলোয় যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার ফল নয়। বিদ্যমান সড়কব্যবস্থায় সর্বোচ্চ কতসংখ্যক যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে তা বিবেচনায় নিয়ে নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগ দরকার।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর