শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৫

ই ন্টা র ভি উ

সবাই নেতা হলে অভিনেতা হবে কে?

সবাই নেতা হলে অভিনেতা হবে কে?
ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান এখন চলচ্চিত্রের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশ গ্রহণের কথাও শোনা গিয়েছিল। তার আগামী পরিকল্পনা কি? এসব  বিষয়ে আজ তার বলা কথা তুলে ধরেছেন—  আলাউদ্দীন মাজিদ

 

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে সরে এলেন, এ বিষয়ে কি বলবেন?

না, আমি এখনই নির্বাচন করার কথা ভাবিনি। রাজনীতির উপরের মহলে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব আছে। তারা আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে অনেক জোর করেছে। নমিনেশন পেপার নিয়ে আসতে চেয়েছে। আমি বলেছি না, এখনই নয়, আমাদের চলচ্চিত্র জগতের অবস্থা ভালো নয়, এখন আমার দরকার কীভাবে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন করা যায়, সেই চিন্তা করা। চলচ্চিত্রের মানুষদের তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখছেন, সহযোগিতা করছেন। আমি যদি নির্বাচন করতে চাইতাম অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাকে সালাম করে রাজনীতিতে চলে আসতাম। সময় তো ফুরিয়ে যায়নি। চলচ্চিত্রের পূর্ণতা দিয়ে পরে না হয় রাজনীতি আর নির্বাচন নিয়ে ভাবব। সবাই যদি এখন নেতা হয়ে যাই তাহলে অভিনেতা হবে কে?

 

মিডিয়া জগতের যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের উদ্দেশে কি বলবেন?

সবার জন্য আমার শুভ কামনা রইল। সবার কাছে অনুরোধ দেশ, মানুষ ও চলচ্চিত্র, শিল্প, সংস্কৃতির উন্নয়নে আপনারা সত্যিকার অর্থে কাজ করবেন।

 

চলচ্চিত্রের জন্য আগামী সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কি?

যেসব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সবার কাছে অনুরোধ, আপনাদের নির্বাচনী ইশতেহারে চলচ্চিত্র সেক্টরের উন্নয়নের বিষয়টি দয়া করে অন্তর্ভুক্ত করুন। নির্বাচিত সরকার যেন ৬৪টি জেলায় কমপক্ষে ৬৪টি মাল্টিপ্লেক্স গড়ে দেন। চলচ্চিত্র হচ্ছে একটি দেশের প্রধান গণমাধ্যম। এটি হলো দেশ, সমাজ ও পরিবারকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। ইয়ং জেনারেশনকে যদি ভালো ছবি দিয়ে কয়েক ঘণ্টা সিনেমা হলে ধরে রাখা যায় তাহলে তারা মাদকসহ নানা নেতিবাচক কাজ থেকে দূরে থাকবে। প্রতিটি ছেলেমেয়ে নিজেকে সমাজের নায়ক-নায়িকা ভাবে। একটি ভালো ছবির ভালো চরিত্র তাকে তার স্বপ্ন পূরণে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। হলিউডের ‘অ্যাভেটার’-এর মতো বিখ্যাত ছবিতে ভালো আর মন্দ চরিত্র ছিল। যা দেখে ইয়ং জেনারেশন ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে এমন অনুকরণীয় কল্যাণকর পথ দেখানোর গল্প নিয়ে অনেক ছবি নির্মাণ হয়েছে। যা যুবসমাজকে ভালো পথে এগোতে সহায়তা করেছে। এমন ছবি নির্মাণ আমরা করব। সরকার শুধু মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণসহ চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সার্বিক পদক্ষেপ নেবেন। আর এই পদক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত করবেন যারা বর্তমানে কাজ করছেন তাদের। যারা কাজ করছেন না বা চলচ্চিত্রের কেউ নয় তাদের নিয়ে প্রকল্প তৈরি করলে তা যথাযথ হবে না এবং এতে চলচ্চিত্রের কোনো উন্নয়নও হবে না।

 

চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সরকারের কাছে আর কি ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন?

আমি চাইব সরকার এই সেক্টরের উন্নয়নে দেড় থেকে দুইশ কোটি টাকার একটি বাজেট প্রণয়ন করবে। আগেই বলেছি মাল্টিপ্লেক্স এবং যারা বর্তমানে চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের নিয়ে এই শিল্পের উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা। এই টাকা দিয়ে দেশব্যাপী মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণসহ টেকনিক্যাল ও অন্যান্য সাইডের উন্নয়ন করা কোনো অলীক স্বপ্ন নয়, সত্যিকারের বাস্তবতা। তা যদি করা হয় আমি শাকিব খান সরকারকে হলফ করে বলে দিতে পারি দেশে-বিদেশে এদেশের চলচ্চিত্রের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো মাত্র দুই বছরের ব্যাপার। ইতিমধ্যে আমার  ও অন্য কয়েকটি দেশীয় ছবি নিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশি ছবির একটি স্বতন্ত্র ও প্রশংসনীয় অবস্থান পুনরায় তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রের সবাইকে নিয়ে সরকারি সহযোগিতায় এই অবস্থান মাত্র দুই বছরে সুদৃঢ় করতে চাই। যুবসমাজ, দেশ, পরিবার আর সমাজের উন্নয়নে ভালো ছবির বিকল্প নেই। এখন চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা নেই। আর চলচ্চিত্রের এই সুস্থ ও সুন্দর সময়ের উন্নয়নে চলচ্চিত্রের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।

 

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আপনি এবং ডি এ তায়েব মিলে একটি প্যানেল দিতে যাচ্ছেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে, এটি কি সত্যি?

দেখুন নির্বাচনের এখনও অনেক দেরি। আমি নির্বাচন করব এমন কিছুই এ মুহূর্তে ভাবছি না। আর নির্বাচন করতে গেলে কারও না কারও শত্রু হতে হয়। পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়ে যায়। আমি এ অবস্থা ব্যক্তিগতভাবে আর চাই না। আমি চাই সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরালো হোক এটিই আমার কাম্য। ডি এ তায়েব একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। চলচ্চিত্রে দুঃসময়ে যখন বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তখন  তিনি লাভ লোকসানের কথা না ভেবে অভিনয়ে নিয়মিত হলেন আর তার স্ত্রী মাহবুবা শাহরীন চলচ্চিত্র নির্মাণ করে যাচ্ছেন। এটি সত্যিই একটি প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় উদ্যোগ। তিনি যদি শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আসেন তার জন্য আমার শুভ কামনা রইল।

 

চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অভিনয় নিয়ে কীভাবে এগোচ্ছেন?

আপনারা জানেন নিজ দেশের চলচ্চিত্রের অচলাবস্থা দূর করতে সম্প্রতি দুটি কলকাতার ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজ দেশের কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছি। প্রথমে নিজের দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়ন করতে হবে। আমি ও প্রযোজক ইকবাল মিলে ‘বীর’ শিরোনামের একটি ছবি প্রযোজনা করছি। যেটি পরিচালনা করছেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান নির্মাতা কাজী হায়াৎ। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এই ছবির মাধ্যমে তিনি আবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করবেন। কারণ এ ধরনের রাজনৈতিক উন্নত গল্পের ছবি অনেক দিন ধরে নির্মাণ হয়নি। এমন একটি চমৎকার ছবি পেয়ে আবারও দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়বে। এরপর শুরু করব প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক আনিসুল হকের গল্প নিয়ে একটি ছবি নির্মাণের কাজ। দেশের খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিক যাদের নিয়ে দেশ ও জাতি গর্ব করে তাদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আমার প্রবল। আমার খুব ইচ্ছা প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণের রচিত একটি গান থাকবে আমার এই ছবিতে। এরপর নির্মাণ করব প্রিয়তমা ছবিটি। এভাবে মানসম্মত নির্মাণ আর অভিনয় দিয়ে দেশ আর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি ছবির আলোড়ন জাগাতে চাই।


আপনার মন্তব্য