শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৫৯

ফের অনন্তর চ্যালেঞ্জ

আলাউদ্দীন মাজিদ

ফের অনন্তর চ্যালেঞ্জ

‘আমার চলচ্চিত্র মানেই নতুন কিছু। ভিন্ন আয়োজন, সুষ্ঠু বিনোদন আর সমাজ সংস্কারের জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ। আমার নির্মিত আগের ছবিগুলোর মতো আবারও নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হচ্ছি। আমার নতুন চলচ্চিত্র ‘দিন : দ্য ডে’ নিয়ে।’ কথাগুলো বললেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা-নির্মাতা অনন্ত জলিল। ‘দিন : দ্য ডে’ ছবিটি নির্মাণ করছেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা আতশ জমজম। এ ছবির শুটিংয়ে অংশ নিতে গত মঙ্গলবার রূপগঞ্জে আসেন অনন্ত। ওইদিন ছিল একটি অ্যাকশন দৃশ্যের চিত্রায়ণ। দুপুরে হেলিকপ্টারে উড়ে আসেন অনন্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর স্পেশাল ব্রাঞ্চ ‘সোয়াত’ অফিসারের পোশাকে দেখা যায় তাকে। তার আসার খবর  পেয়ে সন্ত্রাসীরা গোলাগুলি শুরু করেন। অনন্ত  হেলিকপ্টার থেকে গুলি করতে করতে নেমে আসেন। হলিউডের নায়কদের মতোই অ্যাকশন ছিল তার। ইরানি  টেকনিশিয়ানরা অংশ নিয়েছেন এখানে। ক্যামেরা, লাইট সবমিলিয়ে ১৭ জন টেকনিশিয়ান কাজ করছেন। অনন্ত জলিলের অ্যাকশন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করছিলেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা আতশ জমজম। চলচ্চিত্রে মারপিটের দৃশ্যে স্টান্টম্যানরা অভিনয় করলেও অনন্ত বরাবরই এমন দৃশ্যে নিজেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সেদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তার কথায়, ‘আমি স্টান্টম্যান ব্যবহার পছন্দ করি না। আমি মনে করি, শুটিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে নিজে যখন অভিনয় করব, তখন দৃশ্যের সঙ্গে একাত্ম হতে পারব। তাই আমি নিজেই ঝুকিঁপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয় করি। এই ছবিরই একটি ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে তো আহতও হয়েছিলাম।’  হেলিকপ্টার থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়  গোলাগুলি। মারামারির এই দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে হেলিকপ্টার থেকে লাফ দিয়ে নেমে পড়েন অনন্ত জলিল। হেলিকপ্টার ঘিরেই পুরোটা সময় শুটিং হয়। এর আগে ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে টানা ১৪ দিন শুটিং হয়েছে। সাত দিন ধরে বাংলাদেশে চলছে দ্বিতীয় লটের শুটিং, একটানা চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। রমজান মাসে তুরস্কে দুই সপ্তাহের মতো শুটিং হবে। বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনার এই ছবির বাংলাদেশ অংশের প্রযোজকও অনন্ত জলিল। ছবিতে অনন্ত জলিলের নায়িকা বর্ষা। এই ছবির গল্প প্রসঙ্গে অনন্ত বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তাই তুলে ধরা হবে ছবিতে। ছবিটির গল্প প্রসঙ্গে অসম্ভবকে সম্ভব করা এই নায়ক বলেন, ‘ব্যাংক থেকে মোটা অংকের টাকা চুরি হয়।

সেই টাকা উদ্ধার করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়। তারপর সরকারি নির্দেশে সোয়াত অফিসার ডাকাতদের মেরে টাকাগুলো উদ্ধার করে। ওই সোয়াত অফিসারের ভূমিকায় আমি অভিনয় করছি।’ অনন্ত জলিল আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন  দেশে মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, আদম পাচার হচ্ছে, মাদকের আধিপত্য-চোরাচালান সবকিছুই তুলে ধরা হচ্ছে ‘দিন : দ্য ডে’ ছবিতে। বাংলাদেশ, ইরানে মুক্তির লক্ষ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে ছবিটি। ছবির গল্প ভাবনা অনন্ত জলিলের। চিত্রনাট্য ও সংলাপ তৈরি করেছেন ছটকু আহমেদ। এ চলচ্চিত্র নির্মাণে এমন একটি গল্প বেছে নিলেন কেন? এমন প্রশ্নে অনন্ত বলেন, ‘দেখুন আমরা সবাই একদিন মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে ফিরে যাব। পৃথিবীতে এসে আমাদের অনেক কাজ করতে হয়। সব কাজের মধ্যে সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া আদায় করা হচ্ছে প্রধান কর্তব্য। শান্তির ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে সচেতন থাকা ও অন্যদের সচেতন করা মুসলমানের একান্ত করণীয় কাজ। এই দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের তাগিদেই এ গল্পটি বেছে নিয়েছি। ছবির গল্পের মূল বক্তব্য হলো ‘মুসলিম ইজ নট টেররিস্ট অ্যান্ড ইসলাম নট সাপোর্ট টেররিজম’। ছবির শেষ দৃশ্যটি এমন হতে পারে- একজন ইসলামবিরোধী শূন্য হাতে মারা গেল আরেকজন সাচ্চা মুসলমান দীন নিয়ে মৃত্যুবরণ করল। ‘খোজ দ্য সার্চ’ ছবিটি নিয়ে ২০১০ সালে বড় পর্দায় আসেন অনন্ত। এরপর একে একে নির্মাণ করেন মোস্ট ওয়েলকাম, হৃদয় ভাঙা ঢেউ, দ্য স্পিড, মোস্ট ওয়েলকাম টু ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। মনসুন ফিল্মসের কর্ণধার অনন্ত জলিল একাধারে অভিনতা, প্রযোজক ও পরিচালক। অনন্ত তার ছবি দিয়ে মধ্য থেকে উচ্চবিত্তের দর্শকদের সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনার কারিশমা দেখান। এই সফলতার মূলমন্ত্র হলো- সময়োপযোগী গল্প ও আধুনিক প্রযুক্তির নির্মাণ ও প্রদর্শন। তার এবারের ছবি ‘দিন : দ্য ডে’ বিশ্বব্যাপী ঝড় তুলবে বলে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন দর্শক ক্রেজ অনন্ত জলিল।


আপনার মন্তব্য