শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০২০ ২১:৩৩

অলিভিয়া কেন চলচ্চিত্র ছাড়েন

অলিভিয়া কেন চলচ্চিত্র ছাড়েন

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম  একজন হলেন অলিভিয়া। অভিনয় জীবনের শুরুতেই গ্লামার আর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শক হৃদয়ে স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে নিয়েছিলেন। দর্শকপ্রিয়তার  তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই চলচ্চিত্র ছাড়েন তিনি। কিন্তু কেন? সেই কথাই তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

 

যেমন আছেন এখন

‘আয়রে মেঘ আয়রে, পরদেশি মেঘরে আর কোথা যাসনে, বন্ধু ঘুমিয়ে আছে দে ছায়া তারে...’ দ্য রেইন ছবির এই গানটি এখনো একজন সুশ্রী অভিনেত্রীর কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি হলেন অলিভিয়া। সত্তরের দশকে চলচ্চিত্রে আসা জনপ্রিয় নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে আছেন। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় তার সর্বশেষ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘দুশমনি’। এরপর থেকে এই অভিনেত্রী পর্দা কিংবা বাস্তবে আর কারও মুখোমুখি হননি। অনেকটা নীরবে-নিভৃতেই কাটছে তার জীবন। তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম অভিনেত্রী ববিতা বলেন, আমার সঙ্গে প্রায় দেখা হয় তার। এখনো আগের মতোই হাসিখুশি আছে ও। স্বামী-সংসার নিয়ে সুখেই কাটছে তার জীবন। অভিনেত্রী হিসেবে যেমন বাস্তবেও অসাধারণ ভালো মনের মেয়ে অলিভিয়া। বর্তমানে বসবাস করছেন বনানীর ডিওএসএইচ-এর বাড়িতে।

 

কেন চলচ্চিত্র ছাড়লেন

প্রথম স্বামী চিত্রপরিচালক এস এম শফির মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র ত্যাগ করেন অলিভিয়া। চলচ্চিত্রকার এস এম শফিকে ভালোবেসে ১৯৭২ সালে বিয়ে করেন তিনি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শফি। এরপর শোকাহত অলিভিয়া চলচ্চিত্র জগৎ ত্যাগ করেন। পরে বিয়ে করেন ফতুল্লার মুনলাইট টেক্সটাইল মিলের কর্ণধার হাসানকে। বর্তমানে বসবাস করছেন বনানীর ডিওএসএইচ-এর বাড়িতে। ধর্ম-কর্ম পালন ও সংসারধর্ম নিয়েই পরম সুখে কাটছে তার জীবন।

যেভাবে চলচ্চিত্রে এলেন

খ্রিস্টান মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে অলিভিয়া গোমেজের জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি করাচিতে। ছোটবেলায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে লেখাপড়া করেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মডেলিং শুরু করেন। অলিভিয়া পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় এসে হোটেল পূর্বাণীতে রিসিপশনিস্ট পদে চাকরি করেন কিছুদিন। চাকরিরত অবস্থায় কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। পিতা-মাতার আদি নিবাস ভারতের গোয়াতে। খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারী ছিলেন অলিভিয়ার পরিবার। তার পিতা দেশ বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭২ সালে চিত্রনির্মাতা এস এম শফি তার ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’ ছবিতে প্রথম ব্রেক দেন অলিভিয়াকে। যদিও এর আগে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এবং বেবি ইসলামের ‘সংগিতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল তার। প্রায় ৫৩টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই জননন্দিত অভিনেত্রী। পোশাকি, ফ্যান্টাসি এবং সামাজিক, সব ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং গ্লামার নায়িকা হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পান তিনি। নায়ক ওয়াসিমের সঙ্গে তার জুটি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই জুটির ‘দ্য রেইন’ ছবিটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগায়। অলিভিয়ার স্বামী এস এম শফি তার গ্লামার এবং যৌন আবেদনকে ব্যবহার করতে কার্পণ্য করেননি। তবে অলিভিয়া শক্তিশালী অভিনয়ের পরিচয় দেন রাজ্জাকের বিপরীতে ‘জাদুর বাঁশি’ ছবিতে। ববিতার পর অলিভিয়া ছিলেন একমাত্র নায়িকা যিনি তখন কলকাতার ছবিতে অভিনয় করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। ছবির নাম ‘বহ্নিশিখা’। এ ছবির নায়ক ছিলেন উত্তম কুমার। 

পারিবারিক জীবন

করাচি থেকে ঢাকায় আসার পর পরিবারের সঙ্গে থাকতেন মগবাজারের ইস্পাহানি কলোনিতে। তার বাবা চাকরি করতেন দ্য ডেইলি অবজারভার পত্রিকার রিডিং সেকশনে। ছোট ভাই থাকেন আবুধাবিতে। বড় ভাই অভি ও আরেক ভাই ফুটবলার জর্জি থাকেন ঢাকাতেই। অলিভিয়ার চার বোনের মধ্যে বড় বোন থাকতেন কলকাতায়। ২০১১ সালে তিনি মারা যান। মেজোবোন অডিট ছিলেন বিমানের ক্যাবিন ক্রু। বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন। ছোটবোন অলকা থাকেন কানাডায়। অভিনেত্রী অলিভিয়া দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও পরিবার নিয়ে পরম শান্তিতে আছেন তিনি এটিই তার দর্শক-ভক্তদের জন্য অপার আনন্দের খবর।

 

উত্তমের বিপরীতে কাজ করা একমাত্র বাংলাদেশি নায়িকা

১৯৭৬ সালের সিনেমা ‘বহ্নিশিখা’। নীহাররঞ্জন গুপ্তের গল্প অবলম্বনে নির্মিত সেই সিনেমায় উত্তম কুমারের সঙ্গে আরও ছিলেন সুপ্রিয়া দেবী ও রঞ্জিত মল্লিক। সিনেমায় উত্তমের নায়িকা ছিলেন অলিভিয়া, বাংলাদেশের মেয়ে। সেবারই প্রথম ও শেষ বারের মতো কোনো বাংলাদেশি নায়িকার বিপরীতে কাজ করেন মহানায়ক উত্তম কুমার।

 

৫৩ সিনেমার নায়িকা অলিভিয়া

ক্যারিয়ারে মোট ৫৩টি সিনেমা করেন অলিভিয়া। এর মধ্যে ছন্দ হারিয়ে গেল, পাগলা রাজা, বাহাদুর, শাহজাদী, গুলবাহার, বেদ্বীন, শ্রীমতি ৪২০, চন্দ্রলেখা, টক্কর, হিম্মতওয়ালি, ডার্লিং, রাস্তার রাজা, বন্ধু, লাল মেমসাহেব, তকদিরের খেলা, সতীনাথ কন্যা, ভাইবোন, নাগ-নাগিনী, জংলি রানী, জামানা, জীবন সঙ্গীত, শপথ নিলাম, টাকার খেলা, দূর থেকে বলছি, সেয়ানা, তীর ভাঙা ঢেউ, শাপমুক্তি, একালের নায়ক, কুয়াশা, আগুনের আলো, কালা খুন, আগুন পানি ইত্যাদি অন্যতম। মুক্তি না পাওয়া দুটি সিনেমা হলো ‘মেলট্রেন’ ও ‘প্রেম তুই সর্বনাশী’।


আপনার মন্তব্য