শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৪৯

হয়তো এটাই তথাকথিত ভদ্রতা!

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

হয়তো এটাই তথাকথিত ভদ্রতা!
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

একজন ভিলেন সবার সামনে দাঁড়িয়ে অনেককে হত্যা করে নিজেকে নায়ক বানালো। যারা সেটা দেখেছিল, তারা এখন প্রমাণ খুঁজছে কে সেই হত্যাকারী। হয়তো এটাই তথাকথিত ভদ্রতা! এটাই আমাদের সমাজের তথাকথিত বোবা সংস্কৃতি ও ভঙ্গুর নিরপেক্ষতার স্বরূপ। সবাই কেন যেন নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে চায়। নিজেকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রেখে একটা আত্মস্বীকৃত সুবিধাবাদী চরিত্রের অংশ হিসেবে নিজেকে ভাবতে চায়। এটা কোনো নতুন বিষয় নয়। অনেক পুরোনো একটা নেতিবাচক ধারা ও মানুষের ব্যক্তিত্ব বিসর্জনের প্রক্রিয়া। ইতিহাস ঘাটলে এর প্রমাণ মেলে। বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যার প্রত্যক্ষ মদদদাতা ছিলেন। মীরজাফরের আদেশে তার পুত্র মিরনের তত্ত্বাবধানে মুহম্মদিবেগ নামের এক ঘাতক সিরাজদ্দৌলাকে হত্যা করে। অনেকে সেটা দেখেছে ও জেনেছে কিন্তু এই হত্যাকারীদের নামটা মুখে আনতে পারেননি। এর ফলে মীরজাফর ও তার দোসররা অন্যায় করে ক্ষমতার মসনদে গেছে। সে সময় মানুষ স্বাধীনতা হারিয়েও চুপ করে থেকেছে। নিজেদের ভাঙা মেরুদণ্ডের স্বরূপটা দেখাতে পিছপা হয়নি। ইতিহাসের এই কলঙ্ক থেমে থাকেনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারবর্গকে নির্মমভাবে মোশতাক, অন্যান্য নেপথ্য কুশীলব ও আত্মস্বীকৃত খুনিরা হত্যা করেছে জেনেও কেউ সে সময়সহ অনেক বছর পর্যন্ত একটা কথাও বলেনি। বোবা থেকেছে, নির্বাক দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এই নির্মম ও অন্যায় হত্যার বিরুদ্ধে মানুষের সেসময় পথে নেমে হত্যাকারীদের বিচার দাবি করা জরুরি ছিল কিন্তু তা ঘটেনি। এর ফলে দীর্ঘদিন সেই হত্যাকারী চক্র এই দেশ শাসন করেছে। মানুষকে তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এমনটা যে এখনো থেমে গেছে তা নয়। এখনো এমন ঘটনা ঘটছে। এর কারণটা কি? সেটা ভেবে দেখার সময় বোধ হয় এখন এসেছে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর