শিরোনাম
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৪০

ভালোবাসা দিবস; রংপুরে অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

ভালোবাসা দিবস; রংপুরে অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রত্যাশা

রংপুরে বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ফুল ব্যবসায়ী ও চাষিদের ব্যস্তত্য বেড়েছে। এই দুই দিনে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রায় অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রি করবেন এমনটাই আশা করছেন। অনেক ব্যবসায়ী ফুলে ক্যাপ পড়িয়ে রেখেছেন। বিক্রির ২/৩ দিন আগে ক্যাপ খুলে তা বিক্রি করবেন। রবিবার দুপুরে নগীর চিড়িয়াখানা সড়কে ফুল বিক্রির মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা।  

জানা গেছে, বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে রংপুরে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সারা বছর টুকটাক করে ফুলের ব্যবসা চললেও ব্যবসা জমজমাট হয় পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে। ১০ বছর আগেও ফুলের এমন কদর ছিল না। সময় পল্টানোর সাথে সাথে এখন সর্বত্রই ফুলের কদর বেড়েছে। 

ব্যবসায়ীরা লাল গোলাপ, রজনি গন্ধা, গাদা, কসমস, ডালিয়া, টিউলিপ, কালো গোলাপ, ঝুমকা লতা, গাজানিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন ফুলের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। পহেলা ফুগুন, ভালোবাসা দিবস ছাড়াও  সামনে রয়েছে  একুশে ফেব্রুয়ারি। এই ৩টি দিবসকে সামনে রেখে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুসরত নেই। ব্যবসায়ীদের অনেকেই গোলাপ ফুলকে ক্যাপের মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছেন। 
 
ফুল ব্যবসায়ী ফিরোজ শাহ বলেন, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে প্রতিটি গোলাপ মান ভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হবে। রংপুরে ফুল ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও পাঠানো হয়। আবার যশোর থেকে রংপুরে ফুল আসে। সব মিলিয়ে দেখা গেছে পাইকার, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা ফুল নিয়ে বাড়তি বিক্রি ও বাড়তি আয়ের জন্য ব্যস্ত রয়েছেন।

গোলাপের ক্যাপ পরানো প্রসঙ্গে কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, ব্যবসায়ীরা ফুলের বাইরের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে বাজারজাত করে থাকেন। এতে ফুলের আকার ছোট হয়ে যায় ও সংরক্ষণকাল কমে যায়। গোলাপ ফুলের কলিতে ক্যাপ পরানো একটি লাগসই ও লাভজনক প্রযুক্তি।  এগুলোকে এক প্রকার  বাড নেট বলা হয়। এগুলো দেখতে অনেকটা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফলের বাহিরে থাকা জালিকার মতো। আকারে এগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১২ সেমি হয়ে থাকে বাজারে বিভিন্ন রংয়ের ক্যাপ পাওয়া যায়। সাধারণত গোলাপের কুঁড়ি বের হওয়ার পর ক্যাপটি ওই কুঁড়িতে পরিয়ে দিতে হয়। রোজ ক্যাপ ফুলের কলি ও ফুলকে ঢেকে রাখে ফলে গোলাপ কুঁড়িটি সুরক্ষিত থাকে এবং কুঁড়িটি পোকা-মাকড়ের উপদ্রব, রোগবালাই ও প্রাকৃতিক সব ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। ব্যবসায়ীরা এবং বাগান মালিকরা ক্যাপ পরানোর ফলে আর্থিকভাবে লাভবানও হন। 

এদিকে ফুল ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরী ও আশপাশ এলাকায় শতাধিক ফুলের বাগান রয়েছে। ৬০ থেকে ১০০ একর জমিতে এসব ফুলের বাগান গড়ে উঠেছে। নগরীতে ফুলের ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন অর্ধশত।  বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিয়ে উপলক্ষে সারা বছরই ফুল বিক্রি হলেও বসন্ত ও ভালোবাস দিবসে ফুলের বিক্রি বাড়ে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ২০ গুণ বেশি। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর