Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৬ ২৩:২৪

তদন্তের কেন্দ্রে ভাগ্নে মাহফুজ

সাত দিনের রিমান্ড, টাকা লেনদেন ও নারীঘটিত বিষয়ে গুরুত্ব

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

তদন্তের কেন্দ্রে ভাগ্নে মাহফুজ

নারায়ণগঞ্জে পাঁচ খুনের ঘটনায় নিহত তাসলিমা বেগমের স্বামী মো. শফিকুল ইসলামের ভাগ্নে মাহফুজকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল বিকালে ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল তাকে পাঁচ খুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম শফিকুল ইসলাম শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মূলত মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে পাঁচ খুনের ঘটনায় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন ভাগ্নে মাহফুজ। মাহফুজ তার মামি নিহত লামিয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে বাদী মো. শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন। রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, মাহফুজের নাম মামলার এজাহারে ছিল। পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে আমরা কোনো বিষয়কেই ছোট করে দেখছি না। তবে দুটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। একটি হচ্ছে টাকার লেনদেন এবং অপরটি নারীঘটিত। ভাগ্নে মাহফুজের অতীত ঘটনাটি এজাহারে স্পষ্টভাবেই তার মামা বাদী শফিকুল উল্লেখ করেছেন। অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ঋণদাতা নাজমা ও শাহজাহান এবং ও নারীঘটিত বিষয়ে ভাগ্নে মাহফুজের ক্ষোভ ছিল পরিবারটির ওপর। গুরুত্বের সঙ্গেই মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তে বেশ অগ্রগতিও হয়েছে।’ তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু প্রকাশ করেননি তিনি। জানা যায়, মামলার এজাহারে ঢাকার কলাবাগানের নাজমা ও শাহজাহানের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে যে তাছলিমা তাদের কাছ থেকে চড়া সুদে বিভিন্ন সময় ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত দিতে না পারায় তারা তাছলিমাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাদের হুমকির কারণে ৯ মাস আগে ঢাকার কলাবাগান থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন তারা। আর মাহফুজের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মামি লামিয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় মাহফুজ ক্ষিপ্ত ছিল বলে এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন। অন্যদিকে বাদীর পারিবারিক সূত্র জানায়, লামিয়াকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় পারিবারিক শালিসে মাহফুজকে ১৫ দিন আগে জুতাপেটা করেন মামা শফিক ও শরিফ। ওই সময় তাসলিমাও তীব্র ভাষায় মাহফুজকে কটাক্ষ ও ভর্ত্সনা করেন। ওই দিনই মাহফুজ ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন তিনি ‘দেখিয়ে দেবেন’। মূলত কলাবাগানে নাজমা ও শাজাহানের সঙ্গে টাকার লেনদেন এবং মামি লামিয়াকে মাহফুজের কুপ্রস্তাব ও এর পরিপ্রেক্ষিতে শালিসে জুতাপেটা—এই দুটির যে কোনো একটি কারণে খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, তদন্তের স্বার্থে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে পুলিশ নিহত তাছলিমার খালাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন, শাহাজাদা, ভাগ্নে মাহফুজ, নিহত মোর্শেদুলের হোসিয়ারির কর্মচারী রাসেল, নয়ন, নজিবুন ও সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, দেলওয়ার, শাহাদাত ও ভাগ্নে মাহফুজকে ছাড়া আটক বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মাহফুজকে রিমান্ডের আবেদনের নথিতে ডিবি জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনায় মাহফুজকে বাদী মো. শফিকুল সন্দেহ করেন। তিনি তার মামি নিহত লামিয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। লামিয়া রাজি না হওয়ায় মাহফুজ তাকে শাসিয়েছিলেন। এ ঘটনায় মাহফুজ ক্ষুব্ধ ছিল। তাই পাঁচ খুনের ঘটনায় মাহফুজের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।


আপনার মন্তব্য