শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৩২

সাক্ষাৎকারে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

১০০ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

১০০ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

বর্তমান সরকারের মেয়াদে ২০২৪ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি সচিবালয়ে নিজ দফতরে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আশাবাদ ব্যক্ত

করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৭ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হবে। এ সময় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টিপু মুনশি বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আমাদের ওষুধ ও চামড়া শিল্পের বাজার বড় হচ্ছে। আইটি খাতেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। উন্নত দেশগুলো এসব খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসছে। গার্মেন্ট এক্সেসরিজ, হালকা প্রকৌশল খাতেও আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে আমরা যদি কাক্সিক্ষত রপ্তানি বাড়াতে পারি তবে ১০০ বিলিয়নের ঘরে পৌঁছানো অসম্ভব নয়।

ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে আসা এই রাজনীতিক রংপুর-৪ পীরগাছা কাউনিয়া আসনের সংসদ সদস্য। মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি ২০০৮ সালে এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে তার উদ্যোগ সম্পর্কে টিপু মুনশি বলেন, সরকার যেটা চায় পরিষ্কার, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ জন্য ইজি অব ডোয়িং বিজনেস অর্থাৎ ব্যবসার বাধাগুলো কাটাতে হবে। রপ্তানিপণ্যে বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সহায়ক নীতিসহায়তা চলমান রাখতে হবে। যেসব খাত ভালো করছে সেগুলো সরকারি সুবিধা দিয়ে আরও ভালো করার পথ তৈরি করে দিতে হবে। এগুলোই মূলত কাজ। টিপু মুনশি ২০০৫-২০০৬ সময়ে বিজিএমইএ-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গার্মেন্টস মালিকদের মিলিত সংগঠনের সম্মিলিত-ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁকে গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে অসন্তোষ ও চালের দাম বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির ৮১ দশমিক ২৩ ভাগ আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। এ খাতের শৃঙ্খলা ধরে রাখা একান্ত জরুরি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে এগিয়ে নিতে মালিক ও শ্রমিকদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। সুসম্পর্ক রেখে কাজ করলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প অনেকদূর এগিয়ে যাবে। পণ্যের দাম বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে টিপু মুনশি বলেন, পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বেশ কিছু বিষয় জড়িত থাকে। আমরা যদি জোগান ও সরবরাহ ঠিক রাখতে পারি, তবে দাম বাড়ার কথা নয়।

১০ম জাতীয় সংসদে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এরই মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ফিলিপাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের অ্যাম্বাসেডর আসছেন। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলছেন।

জিএসপি সুবিধা স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে মন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো উদ্যোগ নেবেন কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা তৈরি পোশাকে জিএসপি সুবিধা পাই না। কিছু পণ্যে পাই সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয়। এরপরও জিএসপি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে আমাদের উদ্যোগ চলমান থাকবে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দিকে হাঁটছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে গেলে উন্নত দেশগুলোতে প্রাপ্ত জিএসপি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন দেশের রপ্তানি আয়ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের কৌশল সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, যে কোনো ধরনের উত্তরণের মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করছি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ যেসব দেশ জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে, এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশকে যাতে জিএসপি প্লাস সুবিধা দেয়, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, এফটিএ, পিটিএ-এর মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছি।

টিপু মুনশি বলেন, আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান এখন ৩২ ভাগ। দ্রুতগতিতে দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। অনেকগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। দেশের উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর