শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫৪

ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার শুরু

আদালত প্রতিবেদক

ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার শুরু

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর ঘটনায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল সাইবার ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) ঢাকার বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। এর আগে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মোয়াজ্জেমকে গতকাল কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার দায় থেকে তার অব্যাহতি চেয়ে আদালতে শুনানি করেন তার আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর ও ফারুক আহম্মেদ। শুনানিতে ফারুক বলেন, নুসরাতের মা, ভাই ও সোনাগাজীর পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে তার জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল থানায়। এর পেছনে খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এ ছাড়া ওসি মোয়াজ্জেম ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়াননি। ওই ভিডিওর ক্লিপ থানা থেকে চুরি হয়। এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। যার মানহানি হয়েছে তার বা তার পরিবারের মামলা করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে যিনি মামলা করেছেন তিনি নুসরাতের কেউ নন। তার সম্মানহানির কিছু নেই। সুতরাং এ মামলা চলতে পারে না, আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। শুনানি শেষে বিচারক আসামির অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর আগে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত গত মার্চ মাসে তার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলে তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম তাকে থানায় ডেকে জবানবন্দি নিয়েছিলেন। তার কয়েক দিনের মাথায় নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হলে সারা দেশে আলোচনা শুরু হয়। তখন ওই জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হলে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইবু্যুনালে মামলা করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। পরে  আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মোয়াজ্জেম বেআইনিভাবে মোবাইল ফোনে নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও করেছেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে নুসরাতের মৃত্যুর পর ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রথমে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে পাঠান হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় পুলিশ বাহিনী থেকে। শ্লীলতাহানি মামলার চার্জ গঠন ৫ আগস্ট : ফেনী প্রতিনিধি জানান, বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গতকাল চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে শ্লীলতাহানি মামলার চার্জ গঠনের জন্য ৫ আগস্ট দিন ধার্য করেছে আদালত। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ গতকাল এ আদেশ দেন। এ সময় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ আছে। নুসরাতের আগে ফুর্তি নামের এক ছাত্রীকে তিনি শ্লীলতাহানি করেছেন। প্রতিটি ঘটনাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাদ্রসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিন এবং পৌর কাউন্সিলর ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মাকসুদুল আলম ধামাচাপা দিয়েছেন।’


আপনার মন্তব্য