Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৫৬

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্তই নেয়নি রাজউক

আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ

রুহুল আমিন রাসেল

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্তই নেয়নি রাজউক

হাতিরঝিলের ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। এ ভবন ভাঙতে আদালতের দেওয়া সময়সীমা সম্পর্কে রাজউক বলছে, একটা ভালো কাজের জন্য সময় কোনো বিষয় নয়। আধুনিক নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতির বদলে এখন র‌্যাংগস ভবনের মতো করেই বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে যাচ্ছে রাজউক।

এ প্রসঙ্গে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, এ বছর ১২ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন রাজউক বুঝে নেওয়ার পর ইতিমধ্যে ভবন ভাঙার নির্ধারিত সময় তিন মাস অতিক্রম হয়েছে। এখন আদালতের রায় সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, তা নির্ধারণেরও সময় হয়েছে। এ জন্য আদালতের   কাছে রাজউকের জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মো. মশিউল আজম সজল বলেন, ভবন ভাঙার বিষয়টি এখন রাজউক ও আদালতের। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। কিছু বলারও নেই। জানা গেছে, ভবন ভাঙতে আধুনিক কন্ট্রোলড ডিমোলিশন বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতির বদলে প্রচলিত সনাতন পদ্ধতি বেছে নেওয়া হচ্ছে। এতে বিজিএমইএর খরচ ১৩ কোটি থেকে কমে দাঁড়াবে এক কোটি ৭০ লাখ টাকায়। ভবন ভাঙতে গিয়েও লাভবান হবে বিজিএমইএ। এক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক এই ভবন ভাঙার খরচ দেবে বিজিএমইএ। এর আগে ২০০৮ সালে সনাতন পদ্ধতিতে র‌্যাংগস ভবন ভাঙতে গিয়ে ১১ শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিন দেড় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে ছয় মাসে ১০ তলা র‌্যাংগস ভবন ভাঙা হয়। রাজউক সূত্র জানায়, নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকের সাহায্যে যদি এই ভবন ভাঙতে হয়, তাহলে খরচ হবে কমপক্ষে ১৩ কোটি টাকা। এই পদ্ধতিতে ভবন ভাঙলে ভবনের রড, বাথরুম ফিটিংসসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী কাজে লাগানো যাবে না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রচলিত সনাতন পদ্ধতিতে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার দিকে এগোচ্ছে রাজউক। এ প্রসঙ্গে রাজউকের পরিচালক মো. শাহ আলম চৌধুরী বলেন, বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়নি। আর একটা ভালো কাজের জন্য সময় (আদালত নির্ধারিত ৩ মাস) কোনো বিষয় না। তিনি বলেন, এই ভবন ভাঙতে কোন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, র‌্যাংগস ভবন ভাঙতে গিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছিল। এর কোনো পুনরাবৃত্তি বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে গিয়ে যেন না হয়, সেটাই লক্ষ্য রাখছে রাজউক। গত ১২ এপ্রিল রাজউকের কাছে বিজিএমইএর খালি ভবন বুঝিয়ে দিয়ে রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন নিজেদের নতুন ভবনে কার্যালয় খুলেছে বিজিএমইএ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর