Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪৫

যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা টেকনাফে

অবরোধ, রোহিঙ্গা শিবিরে হামলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি

যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা টেকনাফে

কক্সবাজারের টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গুলিতে নিহত হয়েছেন স্থানীয় যুবক ওমর ফারুক। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকায় একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ওমর ফারুককে খুব কাছ থেকে গুলি করে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহত যুবক ওই এলাকার মোহাম্মদ মোনাফ কোম্পানির ছেলে এবং হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ ও জাদিমুরা এম আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। নিহতের পরিবার লাশ আনতে গেলেও বাধা দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। এর প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী শহর টেকনাফ। এক পর্যায়ে সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের একটি ক্যাম্প ভাঙচুর ও রাস্তায় আগুন দিয়ে অবরোধ করেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য নির্ধারিত থাকা বাড়ির কাছে জাদিমুরা বাজারে একটি দোকানে কেনাকাটা করছিলেন ওমর ফারুক। এ সময় রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার সেলিমের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সেখানে গিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গুলি করে সটকে পড়ে।

ফের এক পর্যায়ে তাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনায় শতাধিক অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, খুনিরা হত্যাকা- শেষে দলবেঁধে শালবাগান পাহাড়ের দিকে চলে যায়। নিহতের ভাই আমির হামজা জানান, ‘রাখাইনে রোহিঙ্গাদের দমন-নিপীড়ন শুরু হলে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে অন্যদের মতো আমার পরিবারও সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসছিল। এসব রোহিঙ্গাকে বিভিন্নভাবে সাহায্যের পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া হয়। বিশেষ করে আমার ভাই ওমর ফারুক রাতদিন পরিশ্রম করে অনেক রোহিঙ্গাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। অথচ আজ সেই রোহিঙ্গারা আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে!’ টেকনাফ থানার ওসি তদন্ত এ বি এম এস দোহা জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধারের পর রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এ হত্যাকা-, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর গতকাল সকালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ওমর ফারুককে হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, বিক্ষোভ ও রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ মাঝির বাড়িতে আগুন দিয়েছেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন এনজিওর গাড়ি ও অফিসও ভাঙচুর করা হয়। সড়কে আগুন জ্বালিয়ে গাছ ফেলে অবরোধ করায় সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা হত্যাকারী রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানাতে থাকে। খবর পেয়ে কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল মনসুর, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখানে গিয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। নিহতের পিতা জানান, কোনো কারণ ছাড়াই রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ মাঝি ও সেলিমের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তার ছেলেকে খুন করেছে। প্রত্যক্ষদশীরা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

 


আপনার মন্তব্য