শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪১

দুর্নীতির টাকায় বিলাসিতা মেনে নেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী

স্বেচ্ছাসেবক লীগে নির্মল সভাপতি, বাবু সাধারণ সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির টাকায় বিলাসিতা মেনে নেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদক-সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অসৎ পথে উপার্জিত অর্থের বিলাসিতা মেনে নেওয়া হবে না। দুর্নীতিবাজরা যেন আর ক্ষমতার আসতে না পারে সেজন্য দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। গতকাল দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের  কেন্দ্রীয় সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এর পেছনে কোনো কারসাজি কিংবা ষড়যন্ত্র আছে কি না, দাম বৃদ্ধির পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে হবে। কারণ বাংলাদেশ যতই এগিয়ে যায়, মানুষ ভালো থাকে, তখন একটা না একটা ইস্যু তৈরি করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। তবে পিয়াজ নিয়ে আর চিন্তা নেই। দ্রুত চাহিদা মেটাতে কার্গো বিমানে পিয়াজ আনা হচ্ছে। আগামীকাল বা পরশুর (রবি বা সোমবার) মধ্যেই পিয়াজ এসে পৌঁছবে। এখন পিয়াজ বিমানেও উঠে গেছে। কাজেই আর চিন্তা নেই। কারও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের জন্য একটা সুন্দর জীবন দেওয়াই তার সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশে একটা শ্রেণি আছে, একটি গোষ্ঠী আছে- মানুষ যত ভালো থাকবে তারা তখন মনোকষ্টে ভোগে, অসুস্থতায় ভোগে। এখন তাদের এই রোগ কীভাবে সারানো যায়, এটা জনগণই বিচার করবে। তিনি বলেন, দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হলে যারা দরিদ্র বিক্রি করে চলত, তাদের আঁতে ঘা লাগে। তাই তারা বারবার বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করে এবং অপপ্রচার চালায়। পিয়াজের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় সব দেশেই পিয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এবং কী কারণে এত অস্বাভাবিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে জানি না। যে কারণে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা দেখতে চাই, এ ধরনের চক্রান্তের সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না?

ভারতের পিয়াজের দাম বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে ১০০ রুপিতে এখন প্রতি কেজি কিনতে পারে। ভারতের শুধু একটা স্টেটে (রাজ্য) তাদের পিয়াজ বেশি। কিন্তু ওই স্টেটের বাইরে যেতে দেয় না। শুধু সেখানেই পিয়াজের দাম একটু কম। তাছাড়া সার্বিকভাবে সেখানেও দাম বেশি। বেলা ১১টায় সম্মেলনের মঞ্চে এসে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে মঞ্চের পাশে শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বেলুন উড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন উদ্বোধন করেন তিনি। সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা দুটি গান পরিবেশন করেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম।

প্রায় দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে ক্যাসিনোকা- ও ভিন্ন অভিযোগে সংগঠন থেকে অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ অনুষ্ঠানে ছিলেন না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম অধিবেশন শেষে বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আগামী তিন বছরের জন্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আফজাল বাবুর নাম ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে ইসহাক মিয়া ও আনিসুর রহমান নাঈমকে। দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে কামরুল হাসান রিপন ও তারেক সাঈদকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকায় জয়কে (পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়) কিডন্যাপ (অপহরণ) করার পরিকল্পনা হয়। বিএনপি দুর্নীতি করে এত টাকা কামিয়েছিল যে, আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর একজন অফিসারকে ভাড়া করে ফেলে, তাকে টাকা দিয়ে কিনে ফেলে। আমেরিকা সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, তার দুই পুত্রের দুর্নীতির তথ্য জানতে পারে। তাদেরই (এফবিআই) রিপোর্ট, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) এবং তার ছেলে ও বোন, আমাদের বিষয়ে কোথাও কোনো রকম কমিশন খাওয়া, দুর্নীতির কোনো দৃষ্টান্ত তারা (এফবিআই) খুঁজে পাননি। বরং যে অফিসারকে বিএনপি হায়ার করেছিল, এফবিআই তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে বের হয়ে আসে কোন কোন বিএনপি নেতা ওই এফবিআই অফিসারকে টাকা দিয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করেই ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে যায়নি। তাদের চক্রান্ত অনেক দূর পর্যন্ত। তারা (বিএনপি) খুঁজতে গেল আমাদের দুর্নীতি, ধরা পড়ল নিজেরাই। আর যখন তারা জয়কে কিডন্যাপ করার পরিকল্পনা নিল, সেখানেও ধরা পড়ল। তাদের (বিএনপি) ওই দুই নেতার নাম চলে এলো জাজমেন্টে (আদালতের রায়ে)। সরকারপ্রধান বলেন, আজকে তারা (বিএনপি নেতা) অনেক কথা বলে। তাদের সময়েই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, গ্রেনেড হামলা হয়েছে। দেশকে পাঁচ পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিল। তারাই দেশে রাজনৈতিক হত্যাকা  শুরু করে। সেই জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া পর্যন্ত। তাদের এই স্বভাব কোনো দিন যাবে না। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সংগঠনের সহ-সভাপতি এবং সম্মেলন অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি বক্তৃতা করেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু সভা পরিচালনা করেন।


আপনার মন্তব্য