শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪০

কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি ব্যাংক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি ব্যাংক খাত

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। গুটিকয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পুরো ব্যাংক খাত জিম্মি। খেলাপি ঋণ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। মূলধন ঘাটতি, নিরাপত্তা সঞ্চিতি চরম সংকটে। এই পরিস্থিতিতে সরকার যে ব্যাংকিং কমিশন করেছে তার সফলতার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের আলোকিত সমর্থন লাগবে। গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য দেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাংক খাত নিয়ে আস্থা, স্বচ্ছতার সংকট আছে। আস্থার সংকট, স্বচ্ছতার সংকট, বিশ্বস্ততার সংকট কাটিয়ে উঠে নতুন গঠিত ব্যাংকিং কমিশনকে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমর্থন ছাড়া কমিশন সফল হবে না। অন্যথায় ব্যাংক খাতের কার্যকর পরিবর্তনের সুযোগ হয়তো আসবে না। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা একসময় রাজনৈতিক অর্থনীতি সমস্যায় উপনীত হয়েছিল। রাজনৈতিক অর্থনীতি সমস্যা এখন রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে গেছে। সুতরাং এখানে রাজনৈতিক সমর্থন বাদ দিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ যে সীমিত তা প্রমাণ পায় নতুন ব্যাংক দেওয়ার মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন ব্যাংক হবে না, তারপরও নতুন তিনটি ব্যাংক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা একটা ভয়ঙ্কর ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছি। শত প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার পরও মন্দ ঋণ অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের পুঁজির ঘাটতি, সঞ্চিতির ঘাটতি, বাণিজ্যিক লাভের ঘাটতির কারণে ব্যাংকে মানুষের টাকা রাখার পরিমাণ কমে গেছে। দেবপ্রিয় বলেন, আমরা দেখছি গুটিকয়েক ব্যক্তি ও  গোষ্ঠীর কাছে এখন পুরো ব্যাংক খাত জিম্মি। ২০১২ সালে হলমার্ক কেলেঙ্কারি উদঘাটিত হয়, তখন থেকে আমরা ব্যাংকিং কমিশনের বিষয়ে বলে আসছি। এখন যে কমিশন গঠিত হয়েছে আমরা অত্যন্ত খুশি এবং সম্পূর্ণ সাফল্য কামনা করছি। এটা অত্যন্ত বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। এ কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য তাদের ক্ষমতা ও সুযোগ দিতে হবে। মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং কমিশনকে সমস্যার গভীরে  যেতে হবে। আমরা দেখতে চাই, কমিশনে কাদের ডাকা হবে, তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে কী ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হবে। গভীরতর যেসব সমস্যা তার সমাধান যদি করতে না পারে তাহলে তা কাজে আসবে না।


আপনার মন্তব্য