শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২০ ২৩:১৫

করোনা মোকাবিলায় ১৮ আইসিইউ

কুয়েত মৈত্রীর পর তৈরি গ্যাসট্রোলিভার হাসপাতাল চীনের আদলে হাসপাতাল করবে আকিজ গ্রুপ

জয়শ্রী ভাদুড়ী

করোনা মোকাবিলায় ১৮ আইসিইউ

শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। কিন্তু দেশে আইসিইউ সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দুটি হাসপাতালে মাত্র ১৮টি আইসিইউ বেড নিয়ে চলছে দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) আমিনুল হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘রাজধানীতে বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড আছে। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে আটটি আইসিইউ বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী তিন দিনের মধ্যে এ হাসপাতালে আরও ১৬টি আইসিইউ বেড রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে ৯০টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হবে।’ তবে রাজধানীর বাইরের কোনো হাসপাতালে এ ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য আইসিইউ বেড নেই বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর-সূত্রে জানা যায়, দেশের সরকারি হাসপাতালে ৫০৮টি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৭৩৭টি আইসিইউ বেড আছে। কিন্তু এসব আইসিইউ বেড করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার হচ্ছে না। কভিড-১৯ সংক্রামক রোগ হওয়ায় অন্য রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত করতে বন্ধ রাখতে হবে আইসিইউ সেবা। রাজধানীর ডেল্টা হাসপাতালে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে রোগী মারা যাওয়ায় সেখানে আইসিইউ সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে জীবাণুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত। আলাদাভাবে কোনো আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়নি করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য। বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা হাসপাতালগুলোয় করোনা ইউনিট প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হলেও আলাদা আইসিইউর ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল) অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের একটি নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হবে। সেখানে আইসিইউতে ভেনটিলেশনসহ অন্যান্য সুবিধা থাকতে হবে।’

আতঙ্কে চিকিৎসকরা : করোনাভাইরাস দেশে হানা দেওয়ার পর থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও সরাসরি সেবা দেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা। ইতিমধ্যেই দুজন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু এখনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) পৌঁছায়নি চিকিৎসকদের হাতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক শেখ ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে চিকিৎসকদের জন্য পিপিই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঢাকার বাইরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের হাতে এখনো পৌঁছায়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত পিপিই। এর মধ্যে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।’

হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘নিউমার্কেট থানার একজন এসআই ফোন করে কতজন চিকিৎসক আছেন, কর্মরত আছেন, তাদের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা থানায় পাঠাতে বলেছেন। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের এমন কোনো নির্দেশনা নেই।’ ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ‘তেজগাঁও থানার একজন এসআই হাসপাতালে এসে খোঁজ নিয়ে গেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন সব বিভাগে চিকিৎসক আছেন কিনা, তাদের নাম-ঠিকানা চেয়েছেন।’

রংপুর মেডিকেলে নতুন যন্ত্র : করোনাভাইরাস শনাক্তে রাজশাহীতে পিসিআর (পলিমিয়ার্স চেইন রিঅ্যাকশন) পাঠিয়েছে আইইডিসিআর। রংপুরেও পিসিআর পাঠানো হয়েছে। এতে করোনা আক্রান্ত শনাক্তে নমুনা ঢাকায় পাঠানোর পরিবর্তে সেখানেই পরীক্ষা করা যাবে। গত দুই দিন থেকে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হচ্ছে রিপোর্ট।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর