শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪২

থানায় ধর্ষণ মামলা

আটকের পর মুচলেকায় ছাড়া ভিপি নূর

নিজস্ব প্রতিবেদক

আটকের পর মুচলেকায় ছাড়া ভিপি নূর

রাজধানীর মৎস্য ভবন ক্রসিংয়ে মিছিল থেকে ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সদ্য সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নূরসহ সাতজনকে আটকের পর মুচলেকায় ছেড়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে রাতে ঢাকা মেডিকেলে তাকে চিকিৎসা দিয়ে আবার ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় তিনি ডিবি হেফাজতে ছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নূরকে যে কোনো সময় ছেড়ে দেওয়া হবে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি মৎস্য ভবন ক্রসিংয়ে            গেলে শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের আটক করে। এর আগে গত রবিবার রাতে লালবাগ থানায় ঢাবির বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলের এক ছাত্রীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় নূরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের শালিসে বিচার না করে উল্টো ভুক্তভোগীকে শাসিয়েছেন ভিপি নূর। তবে গ্রেফতারের আগে ফেসবুক লাইভে এসে মামলায় তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন নুরুল হক নূর। আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মামলার প্রতিবাদে ভিপি নূরসহ তার সমর্থকরা ঢাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় ভিপি নূরের সমর্থকরা। ঘটনাস্থল থেকে ভিপি নূরসহ সাতজনকে আটক করা হয়। পরে মুচলেকায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে নূরের সমর্থকদের দাবি, পুলিশের হামলায় তাদের দেড় শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। জানা গেছে, ধর্ষণ মামলায় নূর ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. নাজমুল হুদা ও ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি। এর মধ্যে মূল অভিযুক্ত হাসান আল মামুন আর নূরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র নূর আলোচনায় আসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে। এই আন্দোলন তাকে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে ডাকসু নির্বাচন করে ভিপি নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দলও গঠন করেছেন।

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন জানান, ঢাবির এক শিক্ষার্থী ভিপি নূরসহ ছয়জনের নামে ধর্ষণের একটি মামলা করেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ১০৪ নবাবগঞ্জ রোডে হাসান আল মামুনের বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থী।

গতকাল বিকালে ভিপি নুরুল হক নূর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের নানা স্বৈরাচারী কর্মকান্ড ও ব্যর্থতার প্রতিবাদ করে আসছি। এ ধরনের নোংরা কর্মকান্ডে আমাকে জড়িয়ে মামলা করার অর্থই হলো আমাকে দমন করার অপচেষ্টা। সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণেই এ ধরনের একটি মামলায় আমাকে সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। অথচ যে শিক্ষার্থীকে দিয়ে মামলা করানো হয়েছে তাকে আমি চিনিও না, তার নামও জানি না। এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে আমাকে দমন করা যাবে না।’ এদিকে, মামলার অভিযোগে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেছেন, ‘হাসান আল মামুন আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সুবাদে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই। নিজ বিভাগের সিনিয়র হওয়ায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের এক পর্যায়ে তার সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় আমার সঙ্গে তার বিভিন্ন সময়ে মেসেঞ্জার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথন হয়। সেখানে আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ৩ জানুয়ারি দুপুরে হাসান আল মামুন আমাকে তার রাজধানীর নবাবগঞ্জ, মসজিদ রোড, ১০৪ নম্বর বাসায় যেতে বলে। সেখানে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে সে।’

অভিযোগে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর ৪ জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ১২ জানুয়ারি আমাকে মামুনের বন্ধু সোহাগের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে মামুন ও সোহাগ তা হতে দেয়নি। এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয়, কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ার পর সে নানা টালবাহানা শুরু করে।’ অভিযোগে ওই ছাত্রী বলেন, ‘উপায় না দেখে ২০ জুন বিষয়টি ভিপি নূরকে মৌখিকভাবে জানাই। কিনি বলেন, মামুন আমার পরিষদের, আমার সহযোদ্ধা। তার সঙ্গে বসে একটা সুব্যবস্থা করে দেব। এরপর ২৪ জুন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে তিনি আমার সঙ্গে নীলক্ষেতে দেখা করতে আসেন। কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন নূর। আমি যদি বাড়াবাড়ি করি তাহলে তার ভক্তদের দিয়ে ফেসবুকে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবেন এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবেন বলে হুমকি দেন। তাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের ১.১ মিলিয়ন সদস্যের গ্রুপে এ প্রচারণার হুমকি দেওয়া হয়। নূর আরও জানান, তার একটি লাইভে আমার সব সম্মান চলে যাবে। ইতিমধ্যে মামলার চার নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দিয়েছে কুৎসা রটাতে। তারা মেসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে।’ অভিযোগে ওই ছাত্রী আরও বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা পর্যায়ের কয়েকজন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে চাইলেও আসামিরা তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে অ্যাখ্যা দেয়। এরপর আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর