শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:০৩

মহাসংকটে নতুন ভিসাধারীরা

সৌদি আরবের ভিসা আবার নেওয়ার ঝক্কি ওমানে প্রবেশই বন্ধ

জুলকার নাইন

রংপুরের সদ্য বিবাহিত আকরাম কাজের জন্য যাবেন সৌদি আরব। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। মার্চে যাওয়ার ফ্লাইটও ছিল। সৌদি আরবের ভিসার জন্য তিনি ইতিমধ্যে সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এর বাইরে মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে। বিদেশ যাওয়ার টাকা অর্ধেক দিয়েছেন বাবা, অর্ধেক দিয়েছেন শ্বশুর। বাবা ফসলি জমি বেচেছেন। শ্বশুর ধার করে দিয়েছেন। কিন্তু আকরাম এখন মহাসংকটে। তার ভাষায়, ‘আমি চোখে শর্ষের ফুল দেখতেছি’।

আকরামের মতো প্রথমবার ভিসা পাওয়া বিদেশগমনেচ্ছু কর্মীদের মহাসংকটে ফেলে দিয়েছে করোনাভাইরাস মহামারী। ধার-দেনা করে অর্থ ব্যয় করে ভিসা সংগ্রহের পর তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা আদৌ যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। ছুটিতে আসা প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে যতটুকু আলোচনা আছে, সে ধরনের আলোচনাও নেই তাদের নিয়ে। নতুন করে ভিসার আবেদন করলে প্রাপ্তির নিশ্চয়তা না থাকলেও আবার টাকা খরচের বিষয়টিও ভাবাচ্ছে তাদের। এখন তারা রাস্তায় নামতে চায়।

জানা যায়, করোনা

মহামারীর আগে সৌদি আরবের পাওয়া প্রায় ২৫ হাজার নতুন ভিসা এরই মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এগুলো বাতিলও করেছে দেশটি। এই ২৫ হাজার শ্রমিককে নতুন করে কাগজপত্র জমা দিয়ে ভিসা নিতে বলেছে সৌদি আরব। নতুন করে কাগজপত্রের সঙ্গে মেডিকেল রিপোর্ট এবং ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। এতে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে তাদের সামনে। মহামারীর আগে ভিসা পেলেও পুনরায় ভিসা দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সৌদি নিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করবে। করোনার কারণে তৈরি অর্থনৈতিক মন্দায় তারা এখন শ্রমিক নিয়োগ দেবেন কিনা তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সৌদি নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোতে যে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দিয়েছিলেন সেটি বাতিল হলে প্রক্রিয়ার জটিলতা ও খরচ আরও বাড়ার শঙ্কাও আছে। অবশ্য বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ভিসাধারী এসব শ্রমিকদের জন্য আর কিছু করতে হবে না। বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলম জানান, আঙ্গুলের ছাপ নেওয়ার সময় অভিবাসী শ্রমিকদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়েছিল। বিএমইটিতে স্মার্টকার্ডধারীদের নতুন করে কিছু করতে হবে না। স্মার্টকার্ড কার্যকর থাকবে।

জনশক্তি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৮০ হাজারের মতো কর্মী করোনার লকডাউন শুরুর আগে সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতিতে ছিলেন। এর মধ্যে ৪০ হাজারের সব অনুমোদন শেষে ফ্লাইট রেডি ছিল। সৌদি আরবের পাশাপাশি অন্যান্য দেশে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন প্রায় ৩০ হাজার। অন্যান্য দেশের একটি বড় অংশই ছিল ওমানগামী।

সেই ওমান নতুন ভিসাধারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বলা হয়েছে, যারা নতুন ভিসা পেয়েছেন তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওমানে প্রবেশ করতে পারবে না। যাদের বৈধ আবাসিক (আকামা) কার্ড আছে তারাই কেবল প্রবেশ বা ফিরতে পারে। রয়েল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে ওমান অবজারভার জানিয়েছে, জনগণকে মহামারী থেকে রক্ষা করার স্বার্থ বিবেচনায় নতুন ভিসাধারীদের প্রবেশ অনুমতি কেবল সুপ্রিম কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ওমান প্রবাসী ব্যবসায়ী আবদুল খালেক জানান, ওমানের সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদেশিদের জায়গায় নিজেদের শ্রমিক রাখার প্রস্তাব করেছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। ওমানি জনশক্তিকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুপারভাইজারি পদগুলোতে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনার বাস্তবায়ন হলে সেখানে থাকা আট লাখ প্রবাসীকেই চাকরির হুমকিতে পড়তে হবে। তখন নতুন ভিসা প্রাপ্তদের ভাগ্য আরও ঝুলে যাবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর