শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩০

দেশ-বিদেশে চলছে নানা অপপ্রচার : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশ-বিদেশে চলছে নানা অপপ্রচার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে নানাভাবে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে যে যাই বলুক, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি যত বক্তৃতা দিক আর যত কথাই বলুক না কেন তাদের নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি যখন একটা দলের নেতা তখন তাদের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস কিছুই থাকে না। তিনি বলেন, মানুষ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে যেহেতু সেবা পেয়েছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, মানুষের কল্যাণ হচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আওয়ামী লীগ অর্জন করেছে। যার প্রতিফলন আমরা দেখলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয়। তিনি বলেন, মানুষ এখন আন্তরিকভাবে ভোট দিচ্ছে। এখন ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হচ্ছে, যেখানে কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। যার যার ভোট সে নিজে দিতে পারে। অতীতে নির্বাচনকালীন প্রহসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দশটা হোন্ডা বিশটা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা- সেদিন আর এখন নেই। বা ভোট বন্ধ থাকলেও একজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো- সেদিনও নেই। তিনি বলেন, আজকাল অনেক কথা এবং অনেক সমালোচনা শুনি, অনেক প্রশ্ন বিএনপি নেতারা করেন। জানি না তারা আয়নায় নিজেদের চেহারাটা ভালোভাবে দেখেন কিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বাস করি সততা নিয়ে কাজ করলে আর সেই কাজের সুফল জনগণ পেলে সেটাই তৃপ্তি। কেউ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে অবশ্যই দেশের উন্নতি করা যায়। আমরা সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যার সুফল এ দেশের মানুষ পাবে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর আমরা জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের জন্য কাজ করছি। টানা সরকার গঠন করার কারণে উন্নয়নকাজগুলো দৃশ্যমান হয়েছে।

পঁচাত্তর-পরবর্তী শাসনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় নির্বাচনে কি জনগণের আদৌ ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল? ছিল না। মিলিটারি শাসকরা যেটা ঠিক করে দিত সেটাই হতো। রেজাল্টও পরিবর্তন হয়েছে। অনেককে কিন্তু পদত্যাগ করতেও হয়েছে। আমরা আন্দোলন করেছি। জনগণ আন্দোলন করেছে। যার কারণে তাদের পদত্যাগ করতে হয়েছে। পরবর্তীরা এতিমের অর্থ আত্মসাতের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে পদার্পণ করেছি। রজতজয়ন্তীতে ক্ষমতায় ছিলাম। সৌভাগ্য যে সুবর্ণজয়ন্তীতেও ক্ষমতায় থাকতে পেরেছি। সুবর্ণজয়ন্তী পালনে আমাদের অনেক আকাক্সক্ষা ছিল, বছরব্যাপী অনুষ্ঠান করব। অনেক অনুষ্ঠান আমাদের চিন্তায় আছে। তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ওয়েব দেখা দিয়েছে। আমাদের এ জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। আমরা সব কর্মসূচি নিয়েছি। তবে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেব। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কর্মসূচি পালন করব। কারণ আমাদের কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষকে সুরক্ষায় রাখা। বিএনপির ওপর মানুষের আস্থা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের গায়ে দুর্নীতির ছাপ, যারা ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, দুর্নীতির দায়ে যাদের কারাবরণ, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারির মামলা ও গ্রেনেড হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, এরা যখন কোনো দলের নেতৃত্বে থাকে, সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি সেই দল চালায়, তারা জনগণের কাজ করবে কীভাবে? বিএনপির তো এখন সেই দশা। তাদের নেতৃত্বের অভাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুজিবের বাংলাদেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। কেউ ঠিকানাবিহীন থাকবে না। আমরা গৃহহীনদের গৃহ দেওয়ার জন্য গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। মুজিববর্ষ সামনে রেখে ব্যারাক হাউসে সাড়ে ৩ হাজার, আর ছোট ছোট ঘর করে প্রায় ৬৬ হাজার মানুষকে পুনর্বাসন করেছি। আরও ১ লাখ মানুষের ঘর তৈরির কাজ চলমান আছে। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। এটাই আমাদের লক্ষ্য। সারা দেশে ৫৬০টি মসজিদ তৈরির কার্যক্রম চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মসজিদগুলোয় ইসলামিক সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। ইসলাম ধর্মটি সঠিকভাবে মানুষ জানবে এবং তার চর্চা করবে সেদিকে লক্ষ্য রেখে এ মসজিদগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।

করোনা আরেকটু নিয়ন্ত্রণে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে অনলাইনে পাঠ চলমান রয়েছে। আমরা এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছি। তারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। শতভাগ পাসের ব্যবস্থা হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজে যেতে না পারার যে দুঃখ ছিল তা দূর হবে। করোনা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আরেকটু নিয়ন্ত্রণে এলেই আমরা স্কুল-কলেজ সব খুলে দেব। তখন ছেলেমেয়েরা আরও সুন্দরভাবে পড়াশোনা করতে পারবে। তিনি বলেন, ১ হাজার কোটি টাকা আমরা ভ্যাকসিনের জন্য আগাম দিয়েছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখনই স্বীকৃতি দিয়েছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে কিনেছি। আমরা জানি এটা নিয়ে অনেক কথা ও সমালোচনা হয়। অনেক ব্যঙ্গ করা হয়। উত্তরটা ভ্যাকসিন আসার পরে বোধহয় ভ্যাকসিন নিজেই দিয়ে দিয়েছে। যারা সমালোচনা করেছে তাদের মুখেই থাপ্পড় পড়েছে। আমাদের কিছু করা লাগেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনেছি। ভারত ২০ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে দিয়েছে। কেনা ভ্যাকসিনের ৫০ লাখ ইতিমধ্যে এসে গেছে। প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে। প্রাথমিকভাবে দেওয়াও শুরু হয়েছে। দেওয়ার পর কী রিঅ্যাকশন- খুব খারাপ রিঅ্যাকশন শোনা যায়নি। চার-পাঁচ জনের হাতে একটু ব্যথা হয়েছে। হালকা জ্বর হয়েছে। আগামী ৬ বা ৮ তারিখ ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। যারা চায় তারা রেজিস্ট্রেশন করবে। যারা চাইবেন তাদের করোনার টিকা দেওয়া হবে। কে কে চায় তা বলতে হবে। ভ্যাকসিন যারা নেবেন তাদেরও মাস্ক পরে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ব থেকে করোনাভাইরাস না যাবে তত দিনই এটা মেনে চলতে হবে। তা ছাড়া অ্যান্টিবডি টেস্টের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেটাও করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমরা বিশ্ব থেকে সাধুবাদ শুনেছি। কিন্তু কেবল শুনি না নিজের দেশের ভিতরে। গুজব রচনা করে, মিথ্যা কথা বলে, অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা বিএনপির জন্মগত চরিত্র। তাদের কথা তারা বলে যাবে। আমাদের কাজ আমরা করে জনগণকে সেবা দিয়ে যাব। কথা তো তাদের বলতে দিতে হবে। না বললে পেটের মধ্যে গুড়গুড় করবে। আর বলে ফেললে বাতাসে উড়ে যাবে। পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে এত কথা। অথচ এ রকম একটি কাজ নিজেদের অর্থায়নে করলাম। তার প্রশংসা তো করতেই পারল না। উল্টো বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিল জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু করা হয়েছে। কেউ এতে উঠবেন না। তাহলে নদীটা পার হবে কীভাবে? সেতু দিয়ে পার না হলে তো নৌকায়ই যেতে হবে। উপায় তো নেই। নৌকায় চড়তে হবে। আমাদের নৌকা অনেক বড়, কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের নৌকা বড় সবাইকে নেব। তবে বেছে নেব, নৌকায় বসে নৌকা যাতে ফুটো না করে।’

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর