শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৪৮

চট্টগ্রামে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ৫

আহত অর্ধশতাধিক, দুটি তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা এলাকায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তিন পুলিশ সদস্যসহ গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলে একই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘাতে নিহত হয়েছিলেন ছয়জন। তারা সবাই জমির মালিক ছিলেন। এবারের ঘটনায় আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় গন্ডামারাসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এর আগে স্থানীয় লোকজন মারমুখী অবস্থায় সংগঠিত হয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় অবস্থান নেন। এতে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গতকাল সকালে উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা এলাকায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ এবং রমজান মাসে শ্রমঘণ্টা কমানোর দাবি তুললে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে আহত অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- রনি হোসেন (২২), শুভ (২৪), আহমদ রেজা (১৮), মো. রাহাত (২৪) ও মো. রায়হান (২৫)। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আহত অবস্থায় ১৫-২০ জন শ্রমিক ও তিন পুলিশ সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা এক শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ চলছিল। সকালে ১২ দফা দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। পরে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয় বলে জানতে পেরেছি।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। এতে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক কানিজ ফাতেমা রুম্পা বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ আমাদের হাসপাতালে আছে। আহতদের অনেককেই চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, চারটি মরদেহ বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আহতদের অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এদিকে বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে পাঁচজন নিহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বিকালে জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তারকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির হোসেন, বিদ্যুৎ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং শ্রম বিভাগের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, পাঁচজন নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন পুলিশ সুপার নেছার আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির হোসেন। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের এপ্রিলে একই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘাতে নিহত হন ছয়জন। বাঁশখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াটের এই কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ কাজে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান।

এই বিভাগের আরও খবর