শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৫৪

প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া উচিত

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া উচিত
Google News

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, কভিডকালে সামাজিক সুরক্ষা নামমাত্র ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। শহরের দরিদ্র শ্রেণি ও নতুন দরিদ্রদের জন্য বর্তমানে থাকা সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি কার্যকরী ও প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ আরও কর্মসূচি হাতে নেওয়া উচিত। নতুন আয়ের ধাক্কা সামলাতে ‘স্মার্ট’ লকডাউন দরকার। এটি স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারও বটে। তিনি বলেছেন, শহরে আয়ের সুযোগ হ্রাস পাওয়ায় বস্তি থেকে গ্রামে চলে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটেছে। সবার সঞ্চয় কমে গেছে আশ্চর্যজনকভাবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ ছাড়া লকডাউনকে উপেক্ষা করে জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবন ও জীবিকার এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে সমন্বয় করা যায়- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়া নারী ও নতুন দরিদ্রদের সহায়তার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। সিএসএমইসহ অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পড়া খাতগুলোতে একটি পরিকল্পিত এবং জোর ধাক্কা দেওয়া প্রয়োজন। তিনি অতি দ্রুত একটি জাতীয় সিএসএমই পুনরুদ্ধার কর্মসূচি প্রণয়নের আহ্‌বান জানান। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, মহামারী সংক্রমণের এক বছর পার হয়েছে। কিন্তু ঋণের জালে জড়িয়েছে এবং সঞ্চয় হারিয়েছে অনেকেই। বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখনো তাদের দৈনন্দিন জীবন চালাতে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে। বিশেষ করে শহুরে বস্তিবাসীর অবস্থা বেশ ভয়াবহ। মহামারীর কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মধ্যে আছে হতদরিদ্র ও মাঝারি দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। তাদের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে। এ ছাড়া রয়েছে দরিদ্র নয় কিন্তু ঝুঁকিতে থাকা একশ্রেণির মানুষ। যাদের বলা হচ্ছে ভালনারেবল নন-পুওর বা ভিএনপি। দেখা গেছে, দারিদ্র্যসীমার ওপরে কিন্তু মধ্যম জাতীয় আয়সীমার নিচে থাকা এ শ্রেণির মানুষের অবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে সবচেয়ে ধীরগতিতে। তিনি বলেন, গত জুনে দরিদ্র নয় কিন্তু সেই ঝুঁকিতে থাকা এ মানুষের ৭২ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছিল। তাদের আখ্যায়িত করা হয়েছিল ‘নতুন দরিদ্র’ হিসেবে। তাদের ৫০ শতাংশ এখনো ঝুঁকিতে থাকা মানুষের তালিকায় বিদ্যমান। এ হার শহরে ৫৯ শতাংশ এবং গ্রামে ৪৪ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ নতুন দরিদ্রদের এ হার বিগত বছরের জুনে ছিল ২১ দশমিক ২ শতাংশ।

তিনি বলেন, কভিড মহামারীর আগে কাজ ছিল। কিন্তু এখন বেকার এমন মানুষ রয়েছে ৮ শতাংশ। কর্মহীনতার এ ধারা নারীদের জন্য বেশ আশঙ্কাজনক। কভিডের আগে কর্মজীবী ছিলেন এমন নারীদের এক-তৃতীয়াংশ গত বছর জুন থেকে এখনো বেকার। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার নেমে এসেছে ১৬ থেকে ৬ শতাংশে। তিনি বলেন, শুধু কৃষি খাতই বলা চলে কভিডপূর্ব অবস্থার মতো ইতিবাচক অবস্থান গড়তে পেরেছে। শহরে আয়ের সুযোগ হ্রাস পাওয়ায় বস্তি থেকে গ্রামে চলে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটেছে। গত বছর ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ বস্তিবাসী শহর ছেড়েছিল, যাদের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো ফেরেনি। প্রাক-কভিড অবস্থার তুলনায় আয় কমলেও খাবারের ব্যয় বাদে দৈনন্দিন যে ব্যয়, সেটি গত জুন থেকে দ্বিগুণ হয়েছে। ভাড়াবাড়িতে থাকা অধিকাংশ শহুরে দরিদ্রের জন্য এটি নির্মম বাস্তবতা। সবার সঞ্চয় কমে গেছে আশ্চর্যজনকভাবে। ভিএনপি ও দরিদ্র নয় এমন শ্রেণির মানুষের সঞ্চয়ের পরিমাণ কভিড-পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে সব শ্রেণিতেই ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর