শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০২১ ২৩:৩১

স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কাই নেই

কেনাকাটায় ভিড়, গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। করোনা মহামারীতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। কিন্তু মানুষ কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ঈদের কেনাকাটা করতে ভিড় করছে বিভিন্ন মার্কেটে। রাস্তায়ও মানুষের চলাফেরা বাড়ছে। বিভিন্ন বাজার, অলিগলি সর্বত্রই মানুষের ভিড়। কোথাও মানা হচ্ছে না যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার শর্তে রাজধানীর বাজার মার্কেট খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায়ই সামাজিক দূরত্ব সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থাকছে। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। অনেকটা ঠেলাঠেলি করে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। এ ছাড়া ওই এলাকার রাস্তাগুলোতেও তীব্র যানজট লক্ষ্য করা গেছে। শনির আখড়ার কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বহু মানুষ করোনা মহামারীর এই সংকটময় সময়েও নিশ্চিন্ত মনে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত। মার্কেটে ভিড় করা এসব মানুষের অনেকে মাস্ক পর্যন্ত পরছেন না। শারীরিক দূরত্বের বালাই নেই বললেই চলে। ঈদের কেনাকাটা করতে অনেকে নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভিড় করছেন বাজার-মার্কেটগুলোতে। এদিকে গণপরিবহন চালু করার দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। গতকাল সকালে গাবতলী, সায়েদাবাদে পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেন। শ্রমিকরা বলছেন, সব খুইলা দিয়া শুধু বাস বন্ধ। এইডা কেমুন নিয়ম। হাইয়েস গাড়িতে মানুষ ঢাকা ছাড়তাছে গাদাগাদি কইরা। কারও সঙ্গে কারও এক ইঞ্চি ফাঁক নাই। তারা বলেন, গাড়ি চললে গাড়িচালক, হেল্পার ও অন্য কর্মীরা টাকা পান। নইলে পান না। বাস পাহারা দেওয়ার জন্য দিনে ১০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয় তাদের। এই টাকায় তারা চলতে পারছেন না। গত বছরও লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ খোঁজখবর রেখেছিল। এ বছর সে অর্থে সহায়তার পরিমাণ কম। মালিকরা যুক্তি দিচ্ছেন, তাদের গাড়ি ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা। গাড়ি বসে থাকলে তাদের আয় বন্ধ। তারপরও কোনো কোনো মালিক চাল, ডাল, আলু ও পিঁয়াজ দিয়েছেন। প্রয়োজনের তুলনায় এই সাহায্য খুবই সামান্য। এদিকে সায়েদাবাদেও গণপরিবহন চলাচলসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা মহানগর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। গতকাল সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন অন্তত ৩০০ পরিবহন শ্রমিক। পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, অবিলম্বে গণপরিবহনসহ সব যানবাহন চালুর অনুমতি দিতে হবে। করোনায় এক মাসের বেশি সময় ধরে পরিবহন চলাচল বন্ধ। এতে বেকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এ জন্য শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

চট্টগ্রাম : গণপরিবহন চালু করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন। এ সময় শ্রমিক নেতারা বলেন, ঈদ সামনে রেখে দোকানপাট খুলে দেওয়া হলেও গণপরিবহন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবহন শ্রমিক অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সরকারি কোনো সংস্থা থেকেও কোনো রকম সহায়তা করা হচ্ছে না। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটছে অনেক পরিবহন শ্রমিকের।

রাজশাহী : কঠোর লকডাউনে বন্ধ আছে গণপরিবহন। এ খাতে জড়িত রাজশাহীর প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার দিশাহারা জীবন-জীবিকা নিয়ে। নেই কাজ। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। আয়শূন্য এসব মানুষের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। এমন অবস্থায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চালুর দাবিতে গতকাল রাজশাহীতে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। সকালে নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে তারা বিক্ষোভ করেন।

রংপুর : রংপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। গতকাল দুপুরে প্রেস ক্লাব চত্বরে এক সমাবেশ থেকে ৩ দফা দাবি জানান ফেডারেশনের নেতারা। শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশে সবকিছু খোলা রেখে শুধু গণপরিবহন বন্ধে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব নয়। সারা দেশে হাট-বাজার, শপিং মল, বিপণীবিতান, ব্যাংক খোলা রেখেছে সরকার। শুধু পরিবহন  সেক্টর বন্ধ রাখা হয়েছে। সামনে ঈদ, আমরা সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। রমজানে সাহরি ইফতরে একটু ভালো খাবারও সুযোগ নেই। আমরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছি।

খুলনা : স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর দাবিতে খুলনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকরা। গতকাল বেলা ১১টায় নগরীর সোনাডাঙ্গা আন্তজেলা বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক বন্ধ করে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। শ্রমিকরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমিকরা।

আয় রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এ ছাড়া বিক্ষোভ হয়েছে জয়পুরহাট, হবিগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, মাগুরা, নীলফামারী, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিক্ষোভে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।